ফুটবল মাঠের অবিশ্বাস্য কীর্তি এবং মাঠের বাইরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে অনন্য সামাজিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব অ্যাস্তুরিয়াস অব স্পোর্টস’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। বুধবার স্পেনের ওভিয়েদোতে মিলিত হয়ে জুরিবোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়।
স্প্যানিশ প্যারা-সুইমার তেরেসা পেরালসের নেতৃত্বাধীন জুরিবোর্ড মেসিকে ফুটবলের ইতিহাসের "সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়" হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে। ফুটবলারের পাশাপাশি একজন মানুষ হিসেবে মেসির নম্রতার প্রশংসা করে জুরির পক্ষ থেকে বলা হয়, "ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ট্রফিজয়ী খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও মাঠের ভেতর অনুকরণীয় আচরণ, ধারাবাহিকতা, নম্রতা এবং দলগত খেলার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার কারণে মেসি সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জয় করেছেন।"
ক্রীড়াশৈলীর পাশাপাশি মেসির সমাজকল্যাণমূলক কাজের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে জুরিবোর্ড আরও জানায়, মেসি তাঁর নিজস্ব ফাউন্ডেশনের (লিও মেসি ফাউন্ডেশন) মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশংসনীয় কাজ করে যাচ্ছেন।
স্পেনের রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্সেস লিওনোরের নামানুসারে প্রবর্তিত এই পুরস্কারটিকে স্প্যানিশভাষী বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মোট ১২টি দেশের ২৭টি মনোনয়নের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে জুরিবোর্ড এবার লিওনেল মেসিকে বেছে নিয়েছে। আগামী অক্টোবর মাসে ওভিয়েদোতে রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও রানী লেতিজিয়ার উপস্থিতিতে প্রিন্সেস লিওনোর নিজে বিজয়ীদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেবেন। পুরস্কার হিসেবে প্রশংসাপত্রের পাশাপাশি ৫০ হাজার ইউরো এবং বিখ্যাত কাতালান শিল্পী জোয়ান মিরোর তৈরি একটি বিশেষ ভাস্কর্য দেওয়া হবে।
১৯৮১ সাল থেকে প্রতি বছর আটটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে প্রিন্সেস অব অ্যাস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন । ক্রীড়া ক্যাটাগরিতে গত বছর (২০২৫ সালে) এই পুরস্কার জিতেছিলেন আমেরিকান টেনিস কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামস। এর আগে রাফায়েল নাদাল, ইকার ক্যাসিয়াস, জাভি হার্নান্দেজ এবং ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলও এই সম্মাননা পেয়েছে।