বিশ্বমঞ্চে সংস্কৃতির দুয়ার আরও উন্মোচিত হবে

এবার অস্ট্রেলিয়ায় ‘হেলেন কেলার’ নিয়ে হাজির হচ্ছেন। অনুভূতি কেমন?

অনুভূতি এককথায় অসাধারণ! এর আগে এশিয়ায় অভিনয় করলেও, এবার প্রায় ৯ হাজার মাইল দূরে অস্ট্রেলিয়ার মঞ্চে দেশের থিয়েটার ও সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি, এটা অত্যন্ত গর্বের। এই আয়োজনের জন্য রেনেসাঁ ড্রামা সোসাইটি এবং নাট্যজন কামরুজ্জামান বালার্ক ভাইয়ের প্রতি স্বপ্নদলের অশেষ কৃতজ্ঞতা।

বর্তমান সময়ে ‘হেলেন কেলার’ নাটকটির প্রাসঙ্গিকতা কতটুকু?

হেলেন কেলার সব সময়ই প্রাসঙ্গিক। একজন অন্ধ-বধির-মূক নারী কীভাবে অসামান্য মানসিক শক্তি আর শিক্ষকের প্রেরণায় ‘বিশ্বের বিস্ময়’ হয়ে উঠলেন, সেই সংগ্রাম সব দেশের সব মানুষের জন্যই এক চিরন্তন অনুপ্রেরণার গল্প।

বিদেশের এই মঞ্চায়নে প্রস্তুতির কোনো ভিন্নতা রয়েছে কি?

অভিনয়ে কোনো ভিন্নতা নেই, তবে কারিগরি ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশে ভিডিও ও অডিও প্রক্ষেপণের কাজটি দুজন মিলে করতেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় আমরা কেবল নির্দেশক জাহিদ রিপন ও আমি, এই দুজন এসেছি। ফলে মঞ্চে আমি যখন অভিনয় করব, নেপথ্যে নির্দেশক একাই লাইট, মিউজিক ও ভিডিও নিয়ন্ত্রণ করবেন।

একক নাটক হলেও এখানে চার্লি চ্যাপলিন, রবীন্দ্রনাথসহ অনেক বিখ্যাত চরিত্রকে আপনি রূপকভাবে আনেন। কাজটি কতটা কঠিন ছিল?

ভীষণ চ্যালেঞ্জিং। হেলেন কেলারের পাশাপাশি তার শিক্ষক অ্যান সুলিভান, চ্যাপলিন, হিটলার বা রবীন্দ্রনাথের মতো চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে। এ জন্য দীর্ঘ পঠন, পাঠন ও গভীর অনুশীলনের মাধ্যমে চরিত্রগুলো নিজের মধ্যে ধারণ করতে হয়েছে।

নাটকটির রচনা ও নির্দেশনার রসায়ন নিয়ে জানতে চাই।

নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুন্ডু হেলেন কেলারের জীবন-দর্শন নিয়ে এটি রচনা করেছেন। আর নির্দেশক জাহিদ রিপন তার রূপান্তর ও নির্দেশনায় চরিত্রটিকে মঞ্চে জীবন্ত করেছেন। পুরো দলের নেপথ্য সহযোগিতাও ছিল অতুলনীয়।

বাংলা নাটকের এই বিশ্বভ্রমণ নাট্যচর্চায় কতটা সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে?

এটি দেশের নাট্যকর্মীদের জন্য দারুণ উদাহরণ হবে। এটি আমাদের ‘হেলেন কেলার’-এর ৬৪তম প্রদর্শনী। আমি বিশ্বাস করি, একনিষ্ঠভাবে নাট্যচর্চা অব্যাহত রাখলে বিশ্বমঞ্চে আমাদের সংস্কৃতির দুয়ার আরও উন্মোচিত হবে।