হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ৬০০ ছাড়াল

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ৮০ দিনে হাম ও হামজনিত উপসর্গে ৬০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৯০ জন হামে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৫১১ জন মারা গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। আলোচনায় আসে মার্চে। তখন নতুন সরকার দ্রুত হাম নিয়ন্ত্রণে জোরালো পদক্ষেপ নেয়। ১৫ মার্চ থেকে সরকার হামের তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের রোগী পাওয়া যায় ৭৪ হাজার ৫৭২ জনের শরীরে। হাম শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ১৯১ জনের । হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬০ হাজার ১৫৮ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৫৫ হাজার ৯৪২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রথম ১৯ দিনে শতাধিক মৃত্যু হয়, ৩২ দিনে মৃত্যু ২০০ ছাড়ায়, ৫০ দিনে ছাড়ায় ৩০০, ৫৬ দিন চার শতাধিক এবং ৬৯ দিনে ৫১২, ৮০তম দিন পর্যন্ত মৃত্যু হয় ৬০১ জনের। ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ দিনে মৃত্যু হয় ১০৩ জনের। এর মধ্যে ৯ জন হামে এবং ৯৪ জন হামের উপসর্গে মারা যায়। ওই পর্যন্ত উপসর্গের রোগী পাওয়া যায় ৫ হাজার ৭৯২ জন। হাম শনাক্ত হয় ৭৭১ জনের। হাসপাতালে ভর্তি হয় ৩ হাজার ৭৭৬ জন। ১৬ এপ্রিল ৩২ দিনে মৃত্যু ছাড়ায় ২০৮ জন। এদের মধ্যে ৩৪ জন হামে এবং ১৭২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যায়। হাম সন্দেহজনক রোগী ২০ হাজার ৩৫২ জন। নিশ্চিত হাম রোগী ৩ হাজার ৬৫ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩ হাজার ১২৯ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছে ১০ হাজার ৪৯৬ জন।

৪ মে পর্যন্ত ৫০ দিনে হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩১১ জন। এর মধ্যে হামে ৫২ ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৫৯ শিশুর মৃত্যু হয়। হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ৪১ হাজার ৭৯৩ জন। সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ২৮ হাজার ৮৪২ জন। হাম শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৪৬৭ জনের। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ২৫ হাজার ১৫১ জন। ১০ মে পর্যন্ত ৫৬ দিনে ৪০৯ জনের মৃত্যু হয়। উপসর্গের রোগী পাওয়া যায় ৪৯ হাজার ১৫৯ জন, হাম শনাক্ত হয় ৬ হাজার ৮১৯ জনের, হাসপাতালে ভর্তি হয় ৩৪ হাজার ৯০৯ জন।

২৩ মে পর্যন্ত ৬৯ দিনে ৫১২ জনের মৃত্যু হয়। উপসর্গের রোগী পাওয়া যায়, ৬২ হাজার ৫০৭ জন। হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৪৯৪ জনের। হাসপাতালে ভর্তি হয় ৪৯ হাজার ৩৮৯ জন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৪৫ হাজার ১১ জন। ওই দিন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিল ৪ হাজার ৩৭৮ জন।

গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ‘সন্দেহজনক’ হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২১০ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৫৫ জনের। অধিদপ্তরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সাত শিশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগের ছয়জন এবং একজন ময়মনসিংহের।

সরকারি হিসাবে বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, হামজনিত মৃত্যু এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে; ২৬৪ জন। এ বিভাগে হামে ৫৪ এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২১০ জনের। রাজশাহী বিভাগে নিশ্চিত হামে দুইজনসহ মোট ৮৭ জন, সিলেটে নিশ্চিত হামে তিনজনসহ ৬৩ জন, বরিশালে নিশ্চিত হামে ১৯ জনসহ ৫৬ জন, চট্টগ্রামে নিশ্চিত হামে ১০ জনসহ ৫৫ জন, ময়মনসিংহে নিশ্চিত হামে দুইজনসহ ৪৮ জন, খুলনায় সন্দেহজনক হামে ২২ জন এবং এবং রংপুর বিভাগে সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের।