আরেক দুঃসংবাদ

বাংলাদেশসহ ৮৬ দেশে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্র জোরপূর্বক শ্রম (ফোর্সড লেবার) ইস্যুতে মোট ৮৬ দেশ থেকে পণ্য আমদানির ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কারোপের প্রস্তাব দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) ওয়াশিংটন সময় মঙ্গলবার প্রস্তাবটি প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির দাবি এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রম রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কানাডা, ইকুয়েডর, ২৭ দেশের জোট  ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্যের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কারোপ করা হতে পারে। এর বাইরে আরও কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত শুল্ক হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার এ বিষয়ে বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে অসম  প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।

ইউএসটিআর বলেছে, নির্দিষ্ট কিছু পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের ক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণে কম শুল্কে প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাবও রয়েছে। এই দুঃসংবাদটি এমন সময় সামনে এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগে আরোপিত সাময়িক শুল্কের মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত একাধিক শুল্ক বাতিল করার পর নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে শুল্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় বিশ্লেষক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠনগুলোর নেতারা অবশ্য মনে করেন, জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসন এবার ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছে এবং বাংলাদেশের ওপর এখনই তা প্রযোজ্য হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। 

বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইউএসটিআর চলতি বছর মার্চের শুরুতে বাংলাদেশসহ কিছু দেশের উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা কিংবা অতিরিক্ত উৎপাদন করার ক্ষেত্রে জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়টি তদন্ত করতে শুরু করে, যা এখন প্রতিবেদন হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগ সত্য হলে, সংশ্লিষ্ট দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ শতাংশ বা তারও বেশি হারে শুল্কারোপ হতে পারে। আগামী জুলাই  মাসে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, যার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত আগস্ট মাসে কার্যকর হতে পারে।

নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতে জোরপূর্বক শ্রমের কোনো সুযোগ নেই। ইউএসটিআরকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইউএসটিআর যে তদন্তের ভিত্তিতে নিজেদের দাবি তুলেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। ফলে জোরপূর্বক শ্রম বলতে যুক্তরাষ্ট্র কী বুঝিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ এসব বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মোহাম্মদ হাতেম যোগ করেন, বাংলাদেশের আইন ও সংবিধানে শ্রমিক এবং শ্রম সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এখন আইনগত কোনো বিষয়ে সংস্কার দরকার হলে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) রয়েছে। তারা সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারে। কিন্তু সেটি না করে উদ্যোক্তাদের ওপর অযৌক্তিক কর চাপিয়ে দিয়ে রপ্তানি বাজারে অস্থিরতা করার কোনো মানে হয় না।

বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়গুলো গুরুত্বসহ দেখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতে বিশে^র শীর্ষ ১০০ পরিবেশসম্মত কারখানার মধ্যে ৭০টি বাংলাদেশে। এ ছাড়া প্রায় ৩০০ পরিবেশসম্মত কারখানা এখানে রয়েছে। ফলে যে দেশে পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা কারখানা ও শ্রমিকদের এত বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, তাদের ওপর শুল্ক চাপিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক এবং অন্যায়।

একই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এবারকার বিষয়টি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়। চীনের উল্লেখ না করে তিনি বলেন,  প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের সঙ্গে নতুন শুল্কের সম্পর্ক থাকতে পারে। তিনি বলেন, বড় দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে সাধারণ রপ্তানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।