জিয়া স্মৃতি জাদুঘর সংস্কার করে স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ

চট্টগ্রাম মহানগরের কাজীর দেউড়িতে অবস্থিত জিয়া স্মৃতি জাদুঘর সংস্কার করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত সব নিদর্শন সংরক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতি সংরক্ষণে যা যা প্রয়োজন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তা বাস্তবায়ন করবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিয়ার ভূমিকা ও বীরত্বের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণেও সরকার কাজ করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সের নাম পরিবর্তন করে একসময় ‘স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’ করা হয়েছিল, যা তার ভাষায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, জাদুঘরের অনেক কক্ষ বর্তমানে সংস্কার কাজের কারণে খালি রয়েছে। সংস্কার শেষে সেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করা হবে এবং সেগুলো নতুনভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন—তিনি যুদ্ধ করেছেন, বীর উত্তম খেতাব পেয়েছেন, সেনাপ্রধান হয়েছেন এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ঐতিহাসিক এসব স্থাপনা আগামী প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও ইতিহাস জানার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু অংশ দ্রুত মেরামত করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।

পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।