বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে নেমে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে চমকে দিয়েছে আফ্রিকান প্রতিনিধি আইভরি কোস্ট। অন্যদিকে, লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে এশিয়ার দল ইরাক।
নান্তেসের স্তাদ দে লা বুজোয়ার স্টেডিয়ামে গত রাতে মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স ও আইভরি কোস্ট। শক্তির বিচারে ফরাসিরা এগিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে রূপকথা লিখেছে ‘দ্য এলিফ্যান্টস’রা। এটি ফ্রান্সের বিপক্ষে আইভরি কোস্টের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম জয়। একই সঙ্গে এই হারের মাধ্যমে ফরাসিদের টানা ৯ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে গেল।
ম্যাচটিতে এক অদ্ভুত পারিবারিক দ্বৈরথও দেখা গেছে। আইভরি কোস্টের জয়ের নায়ক ২৩ বছর বয়সী স্ট্রাসবার্গ ডিফেন্ডার গুয়েলা দুয়ে। তিনি আসলে ফ্রান্স ও পিএসজি ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে-র আপন বড় ভাই। নিজের ভাইয়ের দেশের বিপক্ষেই গোল এবং অ্যাসিস্ট করে ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে ফ্রান্স। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে প্রথমার্ধে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেন। ম্যাচের ৩১ মিনিটে মার্কাস থুরামের পাস থেকে তরুণ রায়হান চেরকি গোল করতে ব্যর্থ হলেও, বিরতির ঠিক শেরকি এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ শটে ফ্রান্সকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন।
বিরতির পর এমবাপ্পেকে তুলে নেন কোচ দিদিয়ের দেশম। দ্বিতীয়ার্ধে আইভরি কোস্টের গতির সামনে ফরাসি রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ে। ৫৩ মিনিটে নিকোলাস পেপের পাস থেকে বল পেয়ে ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইনানকে পরাস্ত করে আইভরি কোস্টকে সমতায় ফেরান গুয়েলা দুয়ে।
এর কিছুক্ষণ পর গুয়েলা দুয়ে-র চমৎকার ক্রস থেকে আলতো টোকায় বল জালে জড়ান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তরুণ তুর্কি আমাদ দিয়ালো। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধান ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে আইভরি কোস্ট।
আগামী ১৫ জুন ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে আইভরি কোস্ট। তার আগে এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। অন্যদিকে ফ্রান্স তাদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে সোমবার মুখোমুখি হবে উত্তর আয়ারল্যান্ডের।
লা করুনিয়ায় ইরাকিদের প্রতিরোধ : লা করুনিয়ার এস্তাদিও দে রিয়াজর স্টেডিয়ামে স্পেনের মুখোমুখি হয়েছিল এশিয়ান পরাশক্তি ইরাক। নিজেদের ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরুতেই লিড নিয়েছিল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
তবে স্প্যানিশদের সেই শুরুর আধিপত্য বেশিক্ষণ টিকতে দেয়নি লড়াকু ইরাক। প্রথমার্ধের সেই লিড ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় স্পেন। রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং দারুণ কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবলের ওপর ভর করে ম্যাচে সমতায় ফেরে ইরাকিরা। ম্যাচের বাকি সময়ে স্পেন আক্রমণের পর আক্রমণ করেও ইরাকের ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি। ফলে ১-১ গোলের ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলকে।