মাতৃত্বের স্বাদ নেওয়ার জন্য নিজেকে অনেক দূরে সরিয়ে রেখেছেন ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজল আগরওয়াল। তার ছেলের বয়স চার বছর।
কাজল মা হওয়ার পর তার জীবনের রুটিন পুরোপুরি বদলে ফেলেছেন। স্বামী-সন্তান, সংসার সামলেও অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার চেষ্টা করছেন কাজল।
খুব শিগগির মুক্তি পাবে কাজল অভিনীত ‘দি ইন্ডিয়া স্টোরি’ সিনেমা। হিন্দি ভাষার এ সিনেমা নিয়ে ভ্যারাইটি ইন্ডিয়াকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
এ আলাপচারিতায় উঠে এসেছে—অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পারিশ্রমিকের বৈষম্য, নারী শিল্পীদের কর্মঘণ্টা, কর্মক্ষেত্রের পরিবেশসহ নানা বিষয়। যা নিয়ে সরল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন কাজল।
অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের পারিশ্রমিকের বৈষম্য নিয়ে এখন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী? এ প্রশ্নের জবাবে কাজল আগরওয়াল বলেন, আশা করি বিষয়টি নিয়ে আরও অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী কথা বলবেন। পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে, তা নিয়ে সংশয় নেই। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে, এটা নিয়ে কাজও করছে। ইন্ডাস্ট্রি এখন অনেক বেশি করপোরেট কাঠামোর মধ্যে এসেছে, যার ফলে কিছু পরিবর্তনও হয়েছে। তারপরও তুলনা করার মতো অবস্থায় পৌঁছায়নি। পুরুষ ও নারী অভিনেতাদের পারিশ্রমিকের ব্যবধান এখনো অনেক বেশি।
আপনার চার বছর বয়সি সন্তান আছে। আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবির বিষয়ে আপনার মতামত কী? উত্তরে কাজল আগরওয়াল বলেন, মা হওয়ার পর আমার জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আমার অগ্রাধিকার বদলে গেছে, সবকিছু সামলানো আরো চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। আমি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরতে চাই। তাই আমার দৈনন্দিন রুটিন এমনভাবে সাজাই, যাতে কাজের নির্দিষ্ট সময় থাকে। আমি এমন শর্ত আমার চুক্তিতেও উল্লেখ করি। সাধারণত, আমি দিনে একটি শিফটে কাজ করি, যা প্রায় নয় ঘণ্টার। তবে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক সময় এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা কারো নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তখন কিছুটা ছাড় দিতে হয়।
২০২০ সালের ৩০ অক্টোবর প্রেমিক গৌতম কিসলুকে বিয়ে করেন কাজল আগরওয়াল। বিয়ের পর এই অভিনেত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন অনেকবার চাউর হয়। তবে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর জানান। ১৯ এপ্রিল পুত্রসন্তানের জন্ম দেন কাজল। ছেলের নাম রেখেছেন নীল কিচলু।
কাজলের হাতে এখন পাঁচটি সিনেমার কাজ রয়েছে। এগুলো হলো- হিন্দি ভাষার ‘দি ইন্ডিয়ান স্টোরি’, ‘রামায়ণ-১’, ‘রামায়ণ-২’, তামিল ভাষার ‘ইন্ডিয়ান থ্রি’ ও ‘এনবিকে ১১১’।