আর্থিক সহায়তা পেল যাত্রীদের জন্য প্রাণ দেওয়া দুলালের পরিবারের 

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত বাসের ব্রেক ফেল করার পর ৪০ যাত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করা বাস হেলপার দুলালের পরিবারের আর্থিক সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে এসিআই মটরস পক্ষ থেকে ইয়ামাহা রাইডারস ক্লাব বাংলাদেশ ও সিয়েট বাংলাদেশ। 

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে দুলালের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন কোম্পানির প্রতিনিধিরা। এ সময় নিহত দুলালের স্ত্রী আফরোজা বেগম ও বড় ভাইয়ের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন তারা।

ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বাংলাদেশের টেরিটরি কর্মকর্তা ইসতিয়াক আহমেদ জানান, নিজের জীবন বাজি রেখে যাত্রীদের জীবন বাঁচানোর যে সাহসিকতা দুলাল দেখিয়েছেন, তা সত্যিই বিরল। তিনি মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। তাছাড়া দুলালের পরিবারের পাশে থাকার জন্য ভবিষ্যতেও সহযোগিতার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত দুলালের স্ত্রী আফরোজা বেগম বলেন, আমার স্বামীর সামান্য আয়ে সংসার চলতো, চিকিৎসাও হতো। প্রতি মাসে আমার প্রায় ১০ হাজার টাকা লাগে। এখন সংসার কীভাবে চলবে, চিকিৎসার টাকা কোথা থেকে আসবে, এই চিন্তায় ঘুমাতে পারি না।

গত (২৯ মে) রাতে ভূরুঙ্গামারী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া আহসান পরিবহনের একটি বাস ধলেশ্বরী টোল প্লাজার কাছে পৌঁছালে হঠাৎ ব্রেক ফেল করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে চালক বাস নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ঠিক সেই মুহূর্তে যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নেন বাসের হেলপার দুলাল। তিনি বাস থেকে নেমে চাকার নিচে কাঠের গুঁড়ি ও ভারী বস্তু দিয়ে বাস থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বাসটি থামলেও চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুলাল। তবে তার আত্মত্যাগে রক্ষা পান বাসের ৪৬ জন যাত্রী।