কুড়িগ্রামে সোনালি আঁশ পাট চাষের শুরুতেই টানা বৃষ্টির কবলে পড়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকার পাটক্ষেতে স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে। কোথাও কোথাও পাটগাছ খর্বাকৃতির হয়ে পড়েছে, আবার অনেক গাছের পাতা হলুদ ও লালচে হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে চাষিদের। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পাটক্ষেতে বিভিন্ন ধরনের সার ও ছত্রাকনাশক স্প্রে ব্যবহার করছেন তারা।
কৃষি বিভাগ বলছে, পাট জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। অতিবৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে নিচু জমির পাটক্ষেত বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। বয়স্ক পাতায় হলুদভাব দেখা দিলে বিঘা প্রতি ৮ কেজি ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মেনকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১০ লিটার পানিতে স্প্রে করলে ৫ শতক জমিতে ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। এতে পাটগাছ কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে আবাদ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। অবশিষ্ট জমিতে আমন চাষ করবেন কৃষকরা।
নাগেশ্বরী উপজেলার বালানি পাড়া এলাকার পাটচাষী মুকুল মিয়া বলেন, অতি বৃষ্টির কারণে আমার জমির পাট ভালো হয়নি। গাছগুলো খর্বাকৃতির হয়ে গেছে, অনেক গাছ লালচেও হয়েছে। জমিতে প্রচুর ঘাস হয়েছে। এখন দোকান থেকে ওষুধ এনে স্প্রে করছি।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকার কৃষক ইউনুস আলী বলেন, একই জমিতে কোথাও পাটগাছ ছোট, আবার কোথাও বড় হয়েছে। গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠিকমতো হচ্ছে না।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক তানভীর আহমেদ সরকার বলেন, পাট বর্ষাকালীন ফসল হওয়ায় সাধারণত সেচের প্রয়োজন হয় না। তবে অতিরিক্ত খরা হলে হালকা সেচ দিতে হয়। অন্যদিকে পাট জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। বর্তমানে জমিতে পানি না থাকলে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি বিঘাপ্রতি ৫ কেজি পটাশ সার ছিটিয়ে দিলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হবে।
কলাপাড়ায় গরু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে টাকা লুট