রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় জানা যাবে আজ রবিবার। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করবেন। গত বৃহস্পতিবার মামলার যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায়ের জন্য এদিন ধার্য করেন বিচারক। রামিসা হত্যাকান্ডের ২০ দিন, বিচার শুরুর সাত দিনের মধ্যে এবং মাত্র চার কার্যদিবস শুনানি শেষে চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় হচ্ছে। এদিকে গতকাল ঢাকায় একটি গোলটেবিল বৈঠকে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সন্তান হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক সাজা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশের দাবি করে বলেন, এভাবে আর কারও বাবা-মায়ের কোল যেন খালি না হয়।
ইতিমধ্যে যুক্তিতর্কের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আসামি সোহেলের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদ-ের আরজি জানিয়েছেন আদালতে। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সোহেলের যাবজ্জীবন ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের স্বল্প মেয়াদের সাজার আরজি জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন বিশেষ কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু। আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কলিমুল্যাহ।
গত সোমবার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আসামিদের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরদিন মঙ্গলবার আসামিদের বিরুদ্ধে এক দিনে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এর আগে গত ২৪ মে সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে এবং ১৭ জনকে সাক্ষী তালিকায় রেখে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই মো. অহিদুজ্জামান।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না রামিসাকে ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তার মা-বাবা সোহেলের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বালতির মধ্যে পান।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে রামিসাকে ধর্ষণ করেন। এর মধ্যে রামিসার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। তখন তাকে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে মরদেহ গুমের জন্য ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা আলাদা করেন। এরপর দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখেন। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিল। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল। নৃশংস এই ঘটনাটি প্রকাশের পর ফুঁসে ওঠে সারা দেশ। হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও সাজার দাবিতে রাজপথে নামেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের তরফ থেকে এ মামলার বিচার দ্রুত শুরু শেষ করার প্রতিশ্রুতি আসে।