ঢাকা বাসযোগ্য মনে হয় না, অন্য শহরে থাকব : ফখরুল

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ এএম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজকাল আমার নিজেরই মনে হয় যে, আমি ঢাকা শহরে থাকব না; আমি দেশের অন্য শহরে গিয়ে থাকব। কারণ এটা আর বাসযোগ্য মনে হয় না।’ গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) আয়োজিত ‘দক্ষিণের জানালা’ উদ্বোধন এবং ‘নাগরিক ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনি ঘর থেকে বের হলেই যে অক্সিজেন গ্রহণ করেন, সেটাও দূষিত। যদি একটি সরকারি হাসপাতালে যান, সেখানে ঢোকাই যায় না। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। সেই অবস্থা থেকে যদি আমরা বের হতে না পারি, প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামনে এগিয়ে আনতে না পারি, তাহলে বাসযোগ্য নগরের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।’

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে সেমিনারে জলাবদ্ধতা ও মশক নিয়ন্ত্রণসহ পৃথক কয়েকটি নাগরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু নাগরিকদের সচেতন করলেই হবে না। যারা নীতিনির্ধারণ করছেন, ঢাকা শহর পরিচালনা করছেন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন, তাদেরও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকার পরিবেশ ও নদী দূষণের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কলেজ জীবনে আমরা প্রায়ই বুড়িগঙ্গায় নৌকায় চড়ে ঘুরতে যেতাম। কিন্তু এখন সেই নদীর কাছেও যাওয়া যায় না। এত দূষিত, এত দুর্গন্ধ। আমার কাছে মনে হয়, ঢাকা শহরের অনেক সমস্যার মূলেই বোধহয় এই বুড়িগঙ্গা। বুড়িগঙ্গার পানি আজ যে অবস্থায় আছে, শীতলক্ষ্যাও প্রায় একই অবস্থার দিকে যাচ্ছে। তাহলে ঢাকার নাগরিকরা যাবে কোথায়? এত প্রকল্প হয়, কিন্তু বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার কোনো প্রকল্প তৈরি হয় না। আমি চেষ্টা করব এ বিষয়ে আলোচনা করে আমরা বুড়িগঙ্গাকে ঠিক করতে পারি কিনা, তুরাগকে ঠিক করতে পারি কিনা, সেসব বিষয় দেখতে হবে।’

রাজধানীর পানির অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এক ক্যাবিনেট বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শহরের পানির অবস্থা খুবই ভয়াবহ। একটি বড় অংশের পানি সেবনযোগ্য নয়। আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এটি ঢাকার জন্য একটি ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে।

নাগরিকদের জন্য ‘দক্ষিণের জানালা’ খুলল ডিএসসিসি

ডিএসসিসির উদ্যোগে ‘দক্ষিণের জানালা’ নামক নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করা হয়েছে। সভাপতির বক্তব্যে সংস্থাটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালম বলেন, ‘দক্ষিণের জানালা’য় নাগরিক, বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা একসঙ্গে বসে সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করবেন, বিশ্লেষণ করবেন এবং তথ্যভিত্তিক সমাধান প্রস্তাবনা তৈরি করবেন। খাতভিত্তিক সেমিনার, টাউন হল মিটিং, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং নাগরিক কমিটির মাধ্যমে আমরা একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন রোডম্যাপ গড়ে তুলতে চাই। তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি শহর গড়ে তুলতে চাই, যেখানে নাগরিকরা শুধু সুবিধাভোগী নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সক্রিয় অংশীদার।

ডিএসসিসির জলাবদ্ধতা বিষয়ে ডিএসসিসির অঞ্চল-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) সাইফুল ইসলাম জয় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আলোচনায় অংশ নেন পানিসম্পদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম, আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। মশক নিয়ন্ত্রণ সেশনে ডিএসসিসির উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা  ডা. নিশাত পারভীন সেশনের মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন। আলোচনায় অংশ নেন ঢাবি প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফিরোজ জামান, কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কীটতত্ত্ববিদ মো. খলিলুর রহমান প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত