আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবে সরকার

স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে তার সভাপতিত্বে বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত এক সভায় তিনি বলেন, দেশের সব অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য এক নয়। যে এলাকায় যে ধরনের মাটি ও পরিবেশ রয়েছে, সে অনুযায়ী গাছ নির্বাচন করে লাগাতে হবে। এতে গাছের বেঁচে থাকার হার বাড়বে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ঋতুচক্রেও দেখা যাচ্ছে পরিবর্তন। আগে জুন মাস এলেই নিয়মিত বৃষ্টিপাত হতো, কিন্তু এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণের পেছনে বনাঞ্চল ও গাছপালা কমে যাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণে অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।’

আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবে সরকার। এই বৃক্ষরোপণ কীভাবে হবে তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আগামী ১৪ জুন সারা দেশে সরকারের এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। কক্সবাজারের দুলাহাজরায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, পরিবেশ সচিব রায়হান কাওছার, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক লুৎফুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী ও ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সেলের সদস্য জামাইল বশীর জেবি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশীয় প্রযুক্তির বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ : প্রাথমিক ও  সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা  জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করবে সরকার। এই লক্ষ্যে দেশীয় প্রযুক্তির বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি সংক্রান্ত সভায় এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু। গতকাল দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা হয়।

হাসান শিপলু জানান, সরকার জনগণের দোরগোড়ায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিতে কাজ করছে। এই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সভা হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রথমে একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে এই প্রকল্পের অ্যাম্বুলেন্স তৈরির কাজ শুরু হবে। সরকারের এই উাদ্যোগ সফল হলে দেশে অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা পূরণ হবে এবং আমদানি নির্ভরতাও কমবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, তিন পর্যায়ে সেবা দেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে গ্রাম থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজধানী এই তিন ধরনের অ্যাম্বুলেন্স তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অ্যাম্বুলেন্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সাপোর্ট এবং জরুরি সেবার বিভিন্ন সুবিধা সংযোজনের পরিকল্পনা আছে। দেশের ভৌগোলিক ও সড়ক যোগাযোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এসব যানবাহনের ডিজাইন করা হবে। সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মুহাম্মদ এহসান, অধ্যাপক জিয়াউর রহমান, অধ্যাপক আবদুল সালাম আখন্দ, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংসদীয় সভায় ৭ মন্ত্রণালয়ের কাজের মূল্যায়ন : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এক গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সংসদীয় সভায় সূচনা ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সভা শেষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, পার্লামেন্টারি ক্যাবিনেট মিটিংয়ে সাতটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা তাদের গত এক মাসের কাজকর্ম, বিদ্যমান সমস্যা এবং তার সমাধানে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেই বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। চিফ হুইপ বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন যে কারিকুলামের ভুলত্রুটিগুলো সংশোধন করে তা আপডেট করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, যে শিক্ষা কর্মমুখী নয়, যে শিক্ষা মানুষকে কাজ শেখাতে পারে না এবং বিদেশে গিয়ে কিছু করতে পারে না, তা আসলে আমাদের কোনো কাজে আসে না। তাই কারিকুলামে কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ফি দুই থেকে তিন হাজার টাকা কমানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা অতিরিক্ত ফি দাবি করবে বা আদায় করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য খাতের আলোচনা প্রসঙ্গে মো. নুরুল ইসলাম জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং হাম প্রতিরোধে দেশব্যাপী সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে সভায় জানানো হয়। চিফ হুইপ জানান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এক হাজার কিলোমিটার নতুন রাস্তার টেন্ডার করেছে। প্রধানমন্ত্রী এক্ষেত্রে কম খরচে এবং দুর্নীতিমুক্তভাবে কাজ সম্পন্ন করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিকেএসপির শাখা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং যুবকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। নারী ও শিশুদের উন্নয়নের বিষয়েও কিছু পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর টার্মিনালের উন্নয়ন এবং তিস্তা ব্যারেজ ইস্যু নিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় তাদের কাজের বিবরণ দেয়। চিফ হুইপ বলেন, ‘বাংলাদেশ যে একটা পানির শূন্যতায় ভুগছিল, তার থেকে আমরা বেরিয়ে আসছি। আমরা আশা করছি পানির ব্যাপারে বাংলাদেশ ভালো একটা অবস্থায় যাবে।’ বিদ্যুৎ খাতের বিষয়ে চিফ হুইপ জানান, বিপুল সংখ্যক মানুষকে নতুন করে বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে এবং দামের ক্ষেত্রে কিছু সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে।

দ্রব্যমূল্য ও ডলার সংকট নিয়ে বিগত সরকারের কড়া সমালোচনা করেন চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিগত সরকার যখন চলে যায়, আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে তারা ডলারের দাম বাড়িয়ে দিয়ে গিয়েছিল। ৮৬ টাকার ডলার তারা ১১৯ বা ১২০ টাকা করেছিল। প্রায় ৩৫-৪০ শতাংশ ডলারের দাম বাড়ার কারণেই স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন জিনিসের দাম বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করছি এগুলো নিয়ে কাজ করতে এবং মানুষের কষ্ট লাঘব করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে।’