সুদানি শরণার্থী থেকে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম মেয়র

যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে শুরু হয়েছিল মুহাম্মদ সেমরার জীবনের পথচলা। শৈশবে মাতৃভূমি ছেড়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল ভিনদেশে। সেখানে দারিদ্র্য ও বর্ণবৈষম্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন তিনি। মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের মারিবিরনং সিটির মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ মেয়রদের একজন এবং আফ্রিকান বংশোদ্ভূত প্রথম অস্ট্রেলীয় মেয়র।

মুহাম্মদ সেমরার এই অর্জনকে বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তার সাফল্যের পেছনে রয়েছে সংগ্রাম, দারিদ্র্য, বর্ণবৈষম্য ও নানা প্রতিকূলতা অতিক্রমের দীর্ঘ গল্প।

সেমরার জন্ম সুদানে। রাজনৈতিক সংকটের সময় তার মা সামিরা ছয় সন্তানকে নিয়ে নিরাপত্তার খোঁজে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। তার বাবা পূর্ব সুদানের আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতা। তিনি সরকারি দমন-পীড়নের সময় কারাবন্দি হন। পরে মুক্তি পেলেও তিনি সুদানেই থেকে যান।

শৈশব থেকেই নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহ ছিল সেমরার। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, অন্য শিশুরা যখন কার্টুন দেখত, তখন তিনি ইতিহাস, সমসাময়িক ঘটনা ও প্রামাণ্যচিত্র দেখতে পছন্দ করতেন। তবে তার পথ মোটেও সহজ ছিল না। দীর্ঘ সময় তিনি তীব্র তোতলামির সমস্যায় ভুগেছেন। এতে আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং স্কুলজীবনে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এক শিক্ষকের উৎসাহে। তার ইংরেজি শিক্ষক তাকে লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবিড় স্পিচ থেরাপি কর্মসূচিতে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করেন। এই প্রশিক্ষণ তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরে তিনি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে দক্ষ বক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় আরেকটি তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন সেমরা। স্কুল ক্যাপ্টেন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিলে এক সহপাঠী তাকে বলে, নেতৃত্ব নাকি শ্বেতাঙ্গদের বিষয়। তবে সেই মন্তব্য তাকে দমাতে পারেনি। নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি বিজয়ী হন।

বর্তমানে মারিবিরনংয়ের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সেমরা। তার নির্বাচনকে অনেক অভিবাসী সম্প্রদায় সামাজিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছে।

লেখক : ইসলামি গবেষক