প্রশ্ন : আমি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। প্রতি মাসে আমার বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখা হয়। জমা রাখা টাকার একটি ন্যূনতম পরিমাণ সরকার কর্র্তৃক নির্ধারিত থাকে। ইচ্ছা করলে বেশি টাকাও জমা রাখা যায়। এই টাকার ওপর মুনাফা দেওয়া হয়। আমার জানার বিষয় হলো, এই মুনাফা নেওয়া বৈধ হবে কি?
রফিক আহমদ, বগুড়া
উত্তর : সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্র্তৃক বাধ্যতামূলকভাবে চাকরিজীবীর বেতনের যে অংশ প্রভিডেন্ট ফান্ডে কেটে রাখা হয় সেটার ওপর সুদের নামে অতিরিক্ত যা দেওয়া হয়, তা চাকরিজীবীর জন্য গ্রহণ করা জায়েজ আছে। এটাকে সুদ বলা হলেও শরিয়তের দৃষ্টিতে সুদ নয়। যেহেতু অর্থটি কর্মীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলকভাবে কেটে রাখা হচ্ছে, তাই এটি হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত তার পূর্ণ মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ সাব্যস্ত হয় না। আর প্রভিডেন্ট ফান্ডে বাধ্যতামূলক অংশের অতিরিক্ত আরও টাকা নিজ থেকে কাটানো জায়েজ নেই। কেউ কাটালে এ টাকার ওপর যা অতিরিক্ত দেওয়া হবে তা নেওয়া জায়েজ হবে না।
এ ছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রভিডেন্ট ফান্ডে অংশগ্রহণ ঐচ্ছিক, সেক্ষেত্রে বিজ্ঞ মুফতিদের অভিমত হলো, এতে কর্মীরা স্বেচ্ছায় অংশ নেন। এ অর্থ শরিয়তসম্মত খাতে বিনিয়োগ হলে প্রাপ্ত লভ্যাংশ গ্রহণ বৈধ। তবে সুদি ব্যাংক বা শরিয়তবিরোধী খাতে বিনিয়োগের অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ বৈধ নয়। (আলবাহরুর রায়েক ২/২০৭, ইমদাদুল আহকাম ৩/৪৮০, জাওয়াহিরুল ফিকহ ৩/২৫৮)
