বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা মানেই চোখ ধাঁধানো আক্রমণাত্মক ফুটবল, গ্যালারি কাঁপানো আকাশি-সাদা উন্মাদনা আর বিশ্ব ফুটবলের এক চিরন্তন পরাশক্তি। বিশ্বফুটবলে ‘লা আলবিসেলেস্তে’ নামে পরিচিত এই দলটি শুধু ঐতিহ্যেই সেরা নয়, বর্তমান বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে ধারাবাহিক ও সফল দল। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে মহাকাব্যিক এক শিরোপা জিতেছিল তারা। কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার (১৯৮৬) পর প্রথম অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ফুটবল ইতিহাসে নিজের অমরত্ব নিশ্চিত করেছিলেন লিওনেল মেসি। কাতারের সেই সোনালি সাফল্যের পর ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার রেকর্ড ১৬তম শিরোপাও জিতেছে তারা। এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের মুকুট ধরে রাখা এবং মহাতারকা লিওনেল মেসির শেষ সুযোগে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যেই মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনার সর্বশেষ বিশ্বকাপ যাত্রা (১৯৯০ সালে) শেষ হয়েছিল পশ্চিম জার্মানির কাছে ফাইনালে হেরে। এবার তাদের সামনে সুযোগ ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দেশ হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তোলার। যদিও ১৯৯৪ সালে সর্বশেষ যখন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেবার শেষ ষোলোতে রোমানিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের। তবে এবার লিওনেল স্কালোনির অধীনে সেই স্মৃতি ভুলে নতুন ইতিহাস লিখতে মুখিয়ে আছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
স্কালোনির রণকৌশল ও আধুনিক দর্শন
২০১৮ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আর্জেন্টিনা ফুটবলকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে গেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার অধীনে দল জিতেছে একটি বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকা। স্কালোনির মূল কৌশল হলো দলে অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের এক অভূতপূর্ব ভারসাম্য বজায় রাখা। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আক্রমণভাগে ক্ষিপ্রতা তৈরি করা এবং রক্ষণভাগে জমাট প্রাচীর গড়ে তোলাই তার আধুনিক ফুটবল দর্শন। ২০২৬ সালের এই মহামঞ্চে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের চেনা ছন্দে রেখে আবারও বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখাই এখন স্কালোনির প্রধান লক্ষ্য।
মূল ভরসা : মেসি, লাউতারো ও আলভারেজ
টানটান উত্তেজনার মধ্যেও আর্জেন্টিনা দলের প্রধান চালিকাশক্তি ও অন-ফিল্ড লিডার হিসেবে থাকছেন ইন্টার মায়ামির মহাতারকা লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮টি গোল করে তিনি এখনো আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। আক্রমণভাগে তার সঙ্গে আসল ধার বাড়াবেন ইন্টার মিলানের তারকা লাউতারো মার্তিনেস এবং আতলেতিকো মাদ্রিদের তরুণ তুর্কি হুলিয়ান আলভারেজ। আর পোস্টের নিচে প্রতিপক্ষের জন্য চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়াবেন চেইস স্টেডিয়ামে পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচেও দুর্দান্ত নজর কাড়া গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ।