মোহামেডানের পিছু পিছু আবাহনী

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচগুলোর রোমাঞ্চকর নিষ্পত্তি ঘটল রিজার্ভ ডে-তে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান তাদের দাপুটে জয়রথ ধরে রেখে টেবিলের শীর্ষস্থান মজবুত করেছে। অন্যদিকে টানা সপ্তম জয়ে চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে ভালো মতোই টিকে আছে আবাহনী।

আগের দিন তাওহীদ হৃদয়ের ১০১ ও মুশফিকুর রহিমের ১০০ রানের ওপর ভর করে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ৩৩৩ রানের পাহাড় গড়েছিল মোহামেডান। বৃষ্টির কারণে ডিএলএস পদ্ধতিতে গাজী গ্রুপের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪২ ওভারে ৩৩৫ রান।

 ২ উইকেটে ৪১ রান নিয়ে শনিবার খেলা শুরু করা গাজী গ্রুপ শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২৮৭ রানে থামে। চারে নেমে সাব্বির হোসেন শিকদার ৯৫ বলে খেলেন ১০৪ রানের এক অনবদ্য অপরাজিত ইনিংস, যা তার লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ওপেনার শোভন মোড়লও ৩৪ বলে ৫৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। মোহামেডানের জয়ে বল হাতে মূল ভূমিকা রাখেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ৩৬ রান খরচায় তিনি শিকার করেন ৪ উইকেট।

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে আবাহনীর সামনে লক্ষ্য ছিল ২০ ওভারে ১৬৩ রান। আগের দিনের ১ উইকেটে ৫১ রান নিয়ে খেলা শুরু করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ৭ বল বাকি থাকতেই ৩ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে।

মিডল অর্ডারে জাকের আলি ৩৩ রানের কার্যকর ইনিংস খেলার পথে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তিন হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ ছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত (১২ বলে ২০) এবং অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (১২ বলে ২৬) দ্রুত কিছু রান যোগ করে জয় সহজ করেন। রূপগঞ্জের হয়ে লেগ-স্পিনার মেহেদি হাসান ৩০ রানে ৩ উইকেট নেন।

শিরোপাপ্রত্যাশী প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব রূপগঞ্জ টাইগার্সের বিপক্ষে হেসেখেলে জয় পেয়েছে। শুক্রবার প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা প্রাইম ব্যাংক শনিবার ১৬৫ রানে অলআউট হয়। দলের পক্ষে শাহাদাত হোসেন ৪৩ ও খালিদ হাসান ৪১ রান করেন। রূপগঞ্জের মেরাজ মাহবুব ২৪ রানে ৪ উইকেট নেন।

 ১৬৬ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রাইম ব্যাংকের বোলিং তোপে মাত্র ১২৫ রানেই গুটিয়ে যায় রূপগঞ্জ টাইগার্স। শফিউল হায়াত (৪২) ছাড়া আর কেউ দাঁড়াতে পারেননি। আলিস আল ইসলাম ও শেখ মেহেদী হাসান ২টি করে উইকেট নেন।

ঢাকা লেপার্ডসের বিপক্ষে ৪৫ ওভারের ম্যাচে ৯ উইকেটে ২৫১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। ওপেনার সাইফ হাসান ১১২ বলে ৯৫ রান করে শতক মিসের আক্ষেপে পোড়েন। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান করেন ৫৮ রান। লেপার্ডসের ইফতেখার হোসেন ইফতি ২৫ রানে ৪ উইকেট নেন।

জবাবে ইফতির ৭০ এবং মঈন খানের ৫৭ রানের পরও লেপার্ডসকে থামতে হয় ২৩৪ রানে। ১৭ রানের জয় পায় বসুন্ধরা। স্পিনার নাহিদুল ও সানজামুল ৩টি করে উইকেট নেন।

বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের ২০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আগের দিনই ৪২ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল সিটি ক্লাব। মনে হয়েছিল জয় কেবল সময়ের ব্যাপার।

তবে রিজার্ভ ডে-তে অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে সিটির লোয়ার-অর্ডার। অষ্টম উইকেটে আব্দুল গাফফার সাকলাইন (৩৬) ও মোহাম্মদ এনামুল ৪৮ রান যোগ করেন। নবম উইকেটে এনামুল (৫৬) ও নিহাদউজ্জামান আরও ৫২ রান যোগ করলে গুলশান শিবিরে কাঁপন ধরে। শেষ উইকেটে আশিক ২৮ বলে ৩৪ রান করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ১৮৬ রানে অলআউট হলে গুলশান ১৭ রানের নাটকীয় জয় পায়।