সামনেই বিশ্বকাপ, আর তার আগেই আবারও ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী হলুদ-সবুজ জার্সি গায়ে জড়াতে যাচ্ছেন নেইমার জুনিয়র। তবে জাতীয় দলে ফিরলেও তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ফুটবলে তার অবদান ইতিমধ্যেই সুরক্ষিত।
ভয়াবহ সব চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পর এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে আবারও জাতীয় দলে ডাকা হয়েছে। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই সেলেসাওদের স্কোয়াডে ফিরলেন তিনি।
ক্লাবের ব্যস্ততা এবং জাতীয় দলকে ঘিরে থাকা তুমুল চাপ ও আলোচনার মাঝেই, সান্তোসের এই তারকা ফুটবলার পিচ থেকে কিছুটা সময় বিরতি নিয়েছিলেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে (২০২৬) সাও পাওলোতে ফ্রিস্টাইল স্পেশালিস্ট সিয়ান গার্নিয়েরের সঙ্গে রেড বুলের ‘আল্টিমেট সকার চ্যালেঞ্জ’-এ অংশ নেন তিনি। যেখানে তার ফুটবল দক্ষতা এবং উচ্চতাভীতি দুটিরই এক বড় পরীক্ষা হয়ে যায়।
চ্যালেঞ্জটি নিয়ে নেইমার অকপটে স্বীকার করেন যে, কাজটি যতটা সহজ মনে হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি ভয়ংকর ছিল।
নেইমার বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম এটা সহজ হবে... কিন্তু সত্যি বলতে এটা বেশ ভীতিকর ছিল এবং আমি বুঝতে পারলাম যতটা মনে হয়, কাজটা তার চেয়েও কঠিন। মূলত বাতাসের কারণেই এমনটা হচ্ছিল বল যেভাবে আপনার দিকে ধেয়ে আসে, বাতাসে সেটার দিক পরিবর্তন হতে থাকে। ফলে বল নিয়ন্ত্রণে রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এই রোমাঞ্চকর অনুভূতির মধ্য দিয়ে যাওয়াটা আমি বেশ উপভোগ করেছি।’
২০২৫ সালে নেইমার জুনিয়র পুনরায় সান্তোসে যোগ দেন। গুরুতর হাঁটু এবং পেশির চোট কাটিয়ে ওঠার লড়াইয়ের অংশ হিসেবে তিনি তার পুরনো সেই ক্লাবে ফিরে আসেন, যেখান থেকে একসময় বিশ্বমঞ্চে তার তারকাখ্যাতির পথ তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে জাতীয় দলে নিজের জায়গা পুনরুদ্ধার করলেও, দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।
নেইমারের কাছে সান্তোসে ফিরে আসাটা ক্যারিয়ারের নতুন কোনো শুরু ছিল না, বরং এটি ছিল এক বৃত্ত পূরণের মতো যেখান থেকে তার পেশাদার ফুটবল জীবনের গল্প শুরু হয়েছিল। ফুটবলের সঙ্গে তার এই আত্মিক টান গড়ে উঠেছিল বাবার সঙ্গে শৈশবের স্মৃতি ধরে, যা তিনি এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছেন, ‘ফুটবলের প্রতি আমার ভালোবাসাটা খুব স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছিল। আমার বাবা যখন ফুটবল খেলতেন, আমি তার সঙ্গে যেতাম। আমি তার সঙ্গে স্টেডিয়ামে যেতাম, অনুশীলনে যেতাম এবং একসময় এই ফুটবলীয় আবহের প্রেমে পড়ে যাই, স্মৃতিচারণ করে নেইমার বলেন ‘এরপর সবকিছু নিজে থেকেই ঘটতে থাকে, আমি একটি যুব একাডেমিতে যোগ দিই, সেখানে সবার নজর কাড়ি, সান্তোসে আসি এবং শেষ পর্যন্ত পেশাদার ফুটবলার হয়ে উঠি।’
ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক পাওয়ায়, নেইমারের সামনে সুযোগ আসছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দেশের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটিকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার। তবে একই সঙ্গে তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, তিনি আপাতত ‘প্রতিটি দিন ধরে ধরে’ এগোচ্ছেন।
বিশ্বকাপে জাতীয় দলের জার্সিতে নেইমারের এই প্রত্যাবর্তন তার ফুটবল ক্যারিয়ারের গল্পে নতুন এক অধ্যায় যোগ করতে যাচ্ছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, ফুটবলের ইতিহাসে তার নাম ইতিমধ্যেই স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে গেছে।
নিজের অর্জন নিয়ে নেইমার জুনিয়র বলেন, ‘আমি মনে করি ফুটবলে আমার কীর্তি ইতিমধ্যেই গড়া হয়ে গেছে। যখনই ফুটবল নিয়ে কথা হবে, মানুষ কোনো না কোনোভাবে আমাকে স্মরণ করবেই। তাই ইতিহাস গড়তে পেরে এবং ফুটবলের ইতিহাসে নিজের নাম খোদাই করে রেখে যেতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। একদিন আমি আমার সন্তানদের, আমার নাতি-নাতনিদের বলতে পারব যে আমি আমার দেশের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলাম।’
ফুটবল বিশ্বে তিনি ঠিক কী হিসেবে পরিচিত হতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে নেইমারের উত্তর ছিল একেবারেই সহজ ও সরল।
নেইমার জুনিয়র বলেন, ‘আমি এমন একজন মানুষ যে মাঠের ভেতর সবসময় নিজের আসল রূপটাই ফুটিয়ে তুলেছে। আমি সবসময় মাঠে আমার শতভাগ উজাড় করে দিয়েছি, তা শুধু সান্তোস, বার্সেলোনা, পিএসজি বা আল হিলালের জন্যই নয়, বিশেষ করে ব্রাজিলের জাতীয় দলের জন্য আমি সবসময় আমার সবটুকু দিয়ে খেলেছি।’