হানি ট্র্যাপে ফেলে হত্যা গাড়িচালক লোকমানকে

রাজধানীর ফায়দাবাদ সংলগ্ন তুরাগ নদীতে বস্তাবন্দি অজ্ঞাত লাশের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিহত লোকমান সরদার গাড়িচালক। ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার আগে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নিয়েছে এই চক্রের সদস্যরা। গত দুদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হত্যাকারীসহ চার জনকে। গতকাল শনিবার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।

তিনি বলেন, গত ১ জুন দক্ষিণ খানের ফায়দাবাদ রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তুরাগ নদীতে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। ঘটনাটি ক্লু-লেস থাকায় এই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে বেগ পেতে হয়েছে। নির্মমভাবে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে এবং গায়ের চামড়া ছিলে তাকে হত্যা করা হয়। লাশ পাওয়ার পরের দিন স্ত্রী ফারজানা আক্তার হত্যা মামলা করেন। এরপর চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন এস এম সালমান, আদিব ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌস মীম ওরফে আনিবা জারা ও সবুজ মিয়া। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হানি ট্র্যাপে ফাঁসিয়ে বিকাশে অর্থ লেনদেনের প্রমাণপত্র এবং লুণ্ঠিত একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিবিআইয়ের এ কর্মকর্তা।

পিবিআই জানায়, গত ৩০ মে কুড়িল এলাকার বাসা থেকে বের হন লোকমান। এরপর তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলার সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পিবিআই। গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের কলাতলী, ঢাকার খিলক্ষেত ও টঙ্গী এলাকায় পৃথক অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআইয়ের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘চালক লোকমানকে টঙ্গীর পাখির বাজার এলাকার হোন্ডা রোডে ডেকে নেন সালমানের কথিত স্ত্রী মীম। সেখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী সালমান, আদিব, রাকিব ও সবুজসহ আরও চার থেকে পাঁচজন লোকমানকে মাদক সেবনের কথা বলে মারধর করে। পরে তার কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ হাজার টাকা আদায় করে।’ এরপরই তাকে হত্যার পর হাত-পা বেঁধে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে তারা গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।

মো. এনায়েত হোসেন বলেন, ‘কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে আদিব ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। সালমান ও মীমকে ধরা হয় ঢাকার খিলক্ষেতের পূর্ব নামাপাড়া থেকে। সবুজ মিয়া গ্রেপ্তার হন টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে। আর গাজীপুরের গাছা থানায় পাওয়া যায় লুট হওয়া কার। সালমান ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।