বিয়ানীবাজার থানা ঘেরাও করে রূপক হত্যার বিচার দাবি

বিয়ানীবাজার থানা ঘোরাও করে যুবক হত্যার বিচার দাবি করলেন গ্রামবাসী। বিয়ানীবাজার পৌরসভার খাসাড়ীপাড়া গ্রামের যুবক সাদিকুল ইসলাম রূপককে (২৭) হত্যার এক সপ্তাহেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ওই গ্রামের বাসিন্দারা মিছিল নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ করেন।

জানা যায়, সাদিকুল ইসলাম রূপকের মরদের নিজ বাসার বৈঠকখানার ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় গত ৩১ মে পুলিশ উদ্ধার করে। এ সময় রূপকের দুই হাত পেছন দিকে শক্ত করে বাঁধা ছিল। এতে ধারণা করা হয় তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। রূপকের মা, স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়ের বাড়িতে আগের দিন বেড়াতে গিয়েছিলেন। রাতেও তারা সেখানে ছিলেন। পরদিন বাড়িতে ফিরে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। মরদেহের পোস্টমর্টেম শেষে পরদিন দাফন করা হয়। এরপর রূপকের মা রাবিয়া বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ আলামত হিসেবে রূপকের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।

এ ঘটনার এক সপ্তাহ পরও এই হত্যার রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। শুক্রবার রাতে খাসাড়ীপাড়া শুকতারা জনমঙ্গল সমিতির কার্যালয়ে গ্রামবাসীর এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে গ্রামের মানুষ মিছিল নিয়ে বিয়ানীবাজার থানার সামনে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা বলেন, রূপক হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে এবং পুলিশ দোষীদের খোঁজে বের না করলে বিয়ানীবাজারের সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। এ সময় বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ছবেদ আলী মামলার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিলে গ্রামবাসী ফিরে যান।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নূরউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এটি ক্লুলেস হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।