স্পেন সফরের শুরুতেই বিশ্বনেতাদের প্রতি বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে শান্তির পক্ষে মানুষের আহ্বান শোনার আহ্বান জানিয়েছেন পোপ লিও। শনিবার (৬ জুন) রাজধানী মাদ্রিদে অভিবাসী, গৃহহীন মানুষ ও প্রায় ছয় লাখ তরুণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
এক সপ্তাহব্যাপী স্পেন সফরে পোপ লিও মাদ্রিদের একটি চার্চ পরিচালিত গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এছাড়া সফরের অংশ হিসেবে তিনি ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে অভিবাসীদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
স্পেনে পৌঁছানোর আগে পোপ বলেন, তার এই সফর বিশ্বের সামনে প্রতিটি মানুষের মর্যাদা ও অধিকারকে সম্মান করার একটি উদাহরণ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা করেন।
মাদ্রিদের রয়্যাল প্যালেসে স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপের উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য সমাজে বিভাজন ও মেরুকরণ উসকে দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে, যা মানবিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করছে।
তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেন, সমাজ ও ইতিহাসকে বিভক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে জটিল বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে হবে। তার মতে, সরলীকৃত ও বিভাজনমূলক বর্ণনা পরিহার করেই সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
পোপ আরও বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে মানুষের পূর্বধারণা বাড়িয়ে তুলছে এবং সমালোচনামূলক চিন্তার সক্ষমতা দুর্বল করছে।
স্পেনের ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মধ্যযুগে খ্রিস্টান, মুসলিম ও ইহুদিদের সহযোগিতার মাধ্যমে জ্ঞানচর্চার প্রসার ঘটেছিল। টলেডোর অনুবাদ বিদ্যালয়ে আরবি ভাষার বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ লাতিন, স্প্যানিশ ও হিব্রু ভাষায় অনূদিত হয়েছিল। এই ইতিহাস দেখায় যে সংঘাত নয়, পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহাবস্থানই স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথ তৈরি করে।
২০১১ সালের পর এই প্রথম কোনো পোপ স্পেন সফর করায় রাজধানী মাদ্রিদের রাস্তায় হাজারো মানুষ ভিড় করেন। অনেকেই ভ্যাটিকান ও স্পেনের পতাকা হাতে পোপকে স্বাগত জানান। সফরের অংশ হিসেবে পোপ লিও একটি গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে অভিবাসীদের অভিজ্ঞতা শোনেন। সেখানে তারা নতুন দেশে এসে কীভাবে জীবন শুরু করেছেন, সেই গল্প তুলে ধরেন।