শুধু মুনাফার কথা চিন্তা না করে, খাদ্য উৎপাদনের সাথে যারা জড়িত তাদের পরিবারের সদস্যরা একই খাবার গ্রহণ করছে, সকলে এমনটি উপলব্দি করলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও ফ্রন্ট অফ প্যাক লেবেলিং সহজ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন। তিনি এ বিষয়টি সংসদে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন।
আজ রবিবার ( ৭ জুন) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আহ্ছানিয়া মিশনের কার্যালয়ের বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন আয়োজিত "জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফ্রন্ট অফ প্যাক লেভেলিং এর প্রয়োজনীয়তা" শীর্ষক সেমিনারে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি দেশের সকল স্তরের নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কোন একক প্রতিষ্ঠান একা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, জবাবদিহিতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা।
মূলপ্রবন্ধে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, খাদ্য শুধু বেঁচে থাকার উপকরণ নয়, বরং সুস্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম নির্ধারক। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগ এক ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে, যা দেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী।
আর এর অন্যতম বড় কারণ হলো আমাদের পরিবর্তিত জীবনযাত্রা, অতিপ্রক্রিয়াজাত ও চটকদার বিজ্ঞাপনে ভরা প্যাকেটজাত খাবারের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার। এই স্বাস্থ্য সংকট থেকে বাঁচতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অতিপ্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবারের মোড়কের সামনে সহজবোধ্য সতর্কবার্তা বা ‘ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং’ (এফওপিএল) প্রবিধানমালা দ্রুত চূড়ান্ত ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিশ্বের ৪৪টিরও বেশি দেশে এই নিয়ম চালু আছে এবং এটি ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর নয়। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও যেন একই মান বজায় রাখে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে এফওপিএল বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লীড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী মাহবুব রহমান এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি ড. এস এম খলিলুর রহমান।