মা-বাবার দিকে তাকালেও কবুল হজের সওয়াব

মানুষ জীবনের নানা অর্জনের জন্য কত পরিশ্রমই না করে। কেউ সম্পদ অর্জনের পেছনে ছুটে, কেউ সম্মান ও সাফল্যের সন্ধানে ব্যস্ত থাকে। অথচ মহান আল্লাহ এমন কিছু আমলের ব্যবস্থা রেখেছেন, যা খুবই সহজ, কিন্তু সওয়াবের দিক থেকে অসাধারণ মর্যাদাপূর্ণ। তেমনই একটি আমল হলো মা-বাবার দিকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে তাকানো। যে দৃষ্টিতে থাকে মমতা,

কৃতজ্ঞতা ও সম্মান, সেই দৃষ্টিকে ইসলাম এত মূল্য দিয়েছে যে, এর বিনিময়ে একজন সন্তান লাভ করতে পারে কবুল হজের সওয়াব। হাদিসে মা-বাবার প্রতি এমন ভালোবাসা ও সেবার যে ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে সন্তান তার পিতামাতার দিকে সশ্রদ্ধ ও ভালোবাসার নজরে তাকায়, সঙ্গে সঙ্গে মহান আল্লাহ তার আমলনামায় একটি কবুল হজের সওয়াব লিখে দেন। এ কথা শুনে উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! সে যদি ওইভাবে দৈনিক ১০০ বার তাকায় তাহলে কি সে ১০০ কবুল হজের সওয়াব পাবে? উত্তরে বিশ্বনবী (সা.) বললেন হ্যাঁ! যদি দৈনিক ১০০ বারও তাকায়, তাহলে সেই সন্তান ১০০ কবুল হজের সওয়াব পাবে।’ (শুআবুল ইমান)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন কোনো অনুগত সন্তান নিজের মা-বাবার দিকে অনুগ্রহের নজরে দেখে, মহান আল্লাহ তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে একটি করে কবুল হজের সাওয়াব দান করেন।’ (বায়হাকি)

আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলল, আমি জিহাদে অংশ নিতে চাই, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য ও সক্ষমতা নেই। তখন রাসুল (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমার মাতা-পিতার কেউ কি জীবিত আছেন?’ লোকটি বলল, আমার মা জীবিত। তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘তাহলে মায়ের সেবা করে আল্লাহর নিকট যুদ্ধ-সংগ্রামে যেতে না পারার অপারগতা পেশ করো। এভাবে যদি করতে পারো এবং তোমার মা সন্তুষ্ট থাকেন তবে তুমি হজ, ওমরাহ এবং জিহাদের সওয়াব পেয়ে যাবে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং মায়ের সেবা করো।’ (মাজমাউজ জাওয়াইদ)