আনচেলত্তি যুগে ব্রাজিলের বিশ্বজয়ের নতুন লড়াই

বিশ্বকাপের আঙিনায় ব্রাজিল মানেই সাম্বার ছন্দ, শৈল্পিক ফুটবলের জাদু আর মাঠজুড়ে এক নান্দনিক উৎসবের প্রদর্শনী। বিশ্ব ফুটবলে একমাত্র পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই পরাশক্তি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ও ঐতিহ্যবাহী নাম। ২০০২ সালে এশিয়ার মাটিতে জার্মানিকে হারিয়ে সর্বশেষ যখন ব্রাজিল সোনালি ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেছিল, তখন কেউ ভাবেনি জয়ের সেই জোয়ার এত দীর্ঘ মরুময়তায় রূপ নেবে। এরপর কেটে গেছে পাঁচটি বিশ্বকাপ, কিন্তু হেক্সা বা ষষ্ঠ শিরোপার স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে সেলেসাওদের।

২০০২ সালের সেই মহাকাব্যিক বিশ্বজয়ের পর বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের গল্পটা কেবলই কোয়ার্টার ফাইনালের জুজু আর চরম আক্ষেপের। গত পাঁচটি বিশ্বকাপের চারটিতেই (২০০৬, ২০১০, ২০১৮ ও ২০২২) দলটিকে বিদায় নিতে হয়েছে শেষ আট বা কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই। আর ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে সেই ৭-১ গোলের ঐতিহাসিক বিপর্যয় তো এখনো তাদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্ষত। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে কম (৮টি) জয় নিয়ে বেশ ধুঁকতে হয়েছে তাদের। এই টালমাটাল অবস্থা থেকে দলকে টেনে তুলতে এবং উত্তর আমেরিকার মাটিতে বিশ্বজয়ের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে ২০২৫ সালের মে মাসে সেলেসাওদের হাল ধরেন ইউরোপীয় ফুটবলের সফলতম মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি।

কার্লো আনচেলত্তির আধুনিক দর্শন

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ ২৪টি প্রধান শিরোপাজয়ী কার্লো আনচেলত্তির জাতীয় দল পর্যায়ে এটাই প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট। ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী জোগো বোনিতো বা আক্রমণাত্মক সুন্দর ফুটবলের সঙ্গে তিনি যোগ করতে চান ইউরোপীয় ঘরানার নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল ভারসাম্য ও রক্ষণভাগের নিñিদ্র সুশৃঙ্খলা। আনচেলত্তির দর্শনে খেলোয়াড়দের মাঠে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার পাশাপাশি দলগত বোঝাপড়া এবং দ্রুত কাউন্টার-অ্যাটাকে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। ভিনিসিয়ুস-রদ্রিগোদের চেনা গুরু আনচেলত্তির এই আধুনিক কৌশলই হতে যাচ্ছে ২০২৬-এর এই মহামঞ্চে ব্রাজিলের মূল হাতিয়ার।

মূল ভরসা  নেইমার, ভিনিসিয়ুস

ইনজুরি আর দীর্ঘদিনের আক্ষেপ উড়িয়ে দিয়ে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি ও অন-ফিল্ড লিডার হিসেবে আবারও দলে ফিরছেন পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র। মাঠের প্রধান কা-ারি হিসেবে খেলা তৈরি করা এবং দলের কঠিন মুহূর্তে জাদুকরী কোনো পাসে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার মূল দায়িত্ব থাকবে এই অভিজ্ঞ তারকার কাঁধেই। বাছাইপর্বে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫টি গোল করে আক্রমণভাগে রাফিনহা এখন সেলেসাওদের অন্যতম প্রধান ভরসা। আর উইং ধরে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স চূর্ণ করার মূল গতি ও জাদুর ছড়ি থাকবে রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পায়ে, যার বাঁ প্রান্তের দৌড় যেকোনো রক্ষণভাগের জন্য দুঃস্বপ্ন। নেইমারের অভিজ্ঞতা আর ভিনি-রাফিনহার গতির মেলবন্ধনেই এবার মিশন হেক্সায় নামবে ব্রাজিল।