আমিই তো ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করব: একে আজাদ

হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে এবং খরচ কমাতে তার প্রতিষ্ঠান থেকে ভবিষ্যতে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কমানোর বা ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছেন। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। 


 
তিনি বলেন, ‘পৃথিবী যেভাবে আগাচ্ছে আমরা কিন্তু সেভাবে এগোতে পারছি না। এখন পৃথিবী চাচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ওপরে ডিপেন্ডেন্সি বাড়াতে। বায়াররা ক্লিয়ার বলে দিয়েছে প্রাইস বাড়াবে না। ফলে আমাকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে ম্যানপাওয়ার কমাতে হবে।

এ কে আজাদ জানান, তার মালিকানাধীন হা-মীম গ্রুপে বর্তমানে প্রায় ৭৫ হাজার কর্মী কাজ করছেন। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তিনি কারখানায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের মাধ্যমে জনবল কমিয়ে উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।

তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমানে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতি বেশ কঠিন। ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ উচ্চ সুদহারে ব্যাংক ঋণ নিয়ে শিল্পকারখানা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর সাথে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

ছাঁটাইয়ের তালিকায় থাকা কর্মীরা অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও প্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণে তাদের চাকরি হারাতে হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন বাজেটে নতুন প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। তাছাড়া, শ্রমিকদের জন্য নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি না করলে কর্মসংস্থানে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

অনেক কোম্পানি বসে যাচ্ছে। তারা প্রাইস মিট করতে পারছে না, এফিশিয়েন্সি বাড়ছে না অথচ তাদের খরচ বাড়ছে। যার জন্য প্রতি মাসে কিছু না কিছু ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শুধু গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি না অন্যান্য ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি বিদেশের সঙ্গে তাল মিলে না চলতে পারি, ইফিশিয়েন্ট না হই তাহলে সারভাইভ করবো না।’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে একে আজাদ বলেন, শিল্প ও রপ্তানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে আরও দূরদর্শী নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়বে।