আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী মৌজায় একটি চক্র বিরোধপূর্ণ জমি দখলের চেষ্টা করছে। স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু চক্রের যোগসাজশে কোটি টাকা মূল্যের ওই জমি দখলের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বটতলী মৌজার আরএস ১৮৯০/১৮৯১ দাগের এবং বিএস ৩৮৮৮/৩৮৮৯ দাগাধীন প্রায় ৫১ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা স্বত্বেও দেলোয়ার হোসেন একটি ভূমিদস্যু চক্রের যোগসাজশে জমিটি দখলের চেষ্টা চালান।
জমির মালিক অ্যাডভোকেট সালাউদ্দীন আহমদ চৌধুরীর অভিযোগ, বটতলী মৌজার প্রায় ৫১ শতাংশ জমি পৈত্রিক সূত্রে তারা মালিক। তার এক ভাই একই দাগ নম্বর উল্লেখ করে ভিন্ন দাগের জমি দেলোয়ার হোসেনের কাছে বিক্রি করে বুঝিয়ে দেন। ওই জমিতে দখলে থাকা স্বত্বেও দীর্ঘদিন পর হঠাৎ করে দেলোয়ার হোসেন বিরোধীয় দাগের জমি দখলের চেষ্টা করেন। দেলোয়ার হোসেন ও তার লোকজন যাতে এই বিরোধপূর্ণ জমি দখল করতে না পারেন সেজন্য তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। এরপর আদালত বিরোধপূর্ণ জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারি এবং শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আনোয়ারা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশের পরও দেলোয়ার হোসেন স্থানীয় ভূমিদস্যু চক্রের যোগসাজশে একাধিকবার জমি দখলের চেষ্টা করেন। সর্বশেষ গত ৬ জুন ওই জমিতে বালু ভরাটের মাধ্যমে প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের সহায়তায় জমি দখলের চেষ্টা চালান। বিষয়টি আনোয়ারা থানায় অবগত করার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেলোয়ার হোসেনকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমার উকিলের পরামর্শে মাটি ভরাট করেছি। যা আমার ভুল হয়েছে। এই বিষয়ে আমি পুলিশের কাছে ভুল স্বীকার করে মুচলেকা দিয়েছি।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আনোয়ারা থানার এসআই ইমাম হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমরা দেলোয়ারকে থানায় নিয়ে আসি, পরে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির জিম্মায় এই ধরণের কাজ আর করবেন না মর্মে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।