চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযানে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় পরিচালিত এ অভিযানে মাদকাসক্তির ভয়াবহ সামাজিক প্রভাবের নানা চিত্র উঠে আসে। অভিযানের সময় এক মায়ের কান্নাজড়িত আবেদন ও ছেলের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা উপস্থিতদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে রবিবার (৭ জুন) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত মোট তিনজনকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারায় সাজা প্রদান করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন।
মদ্যপ অবস্থায় আটক কাভার্ড ভ্যানচালক অভিযানের প্রথম ঘটনায় সন্ধ্যায় উপজেলার পালেগ্রাম এলাকা থেকে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় মদ্যপ অবস্থায় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
আটককৃত মো. মাঈনুদ্দীন (২৯) কাথরিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন কাভার্ড ভ্যানচালক।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মদ্যপানে আসক্ত থাকার কথা স্বীকার করেন। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট করার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
মায়ের মুখে ছেলের অপকর্মের ফিরিস্তি, ৯ মাসের কারাদণ্ড রাত ৯টার দিকে শীলকূপ ইউনিয়নের মুলকিরচর এলাকায় আরও একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে আসে। মো. শহীদুল্লাহ্ (১৯) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও নিজের মাকে মারধরের অভিযোগ পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ নূরী এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে অভিযুক্তের মা নিজে উপস্থিত হয়ে ছেলের দীর্ঘদিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, মাদকের টাকা জোগাড় করতে তার ছেলে নিয়মিত মোবাইল ফোন চুরি করত এবং এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি মোবাইল চুরির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্তের মা প্রশাসনের কাছে নিজের সন্তানের শাস্তি প্রার্থনা করেন। তিনি জানান, ছেলের লাগামহীন আচরণ ও মাদকাসক্তির কারণে পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি নিজেই ছেলের কারাদণ্ড কামনা করেন।
উপস্থিত সাক্ষ্যপ্রমাণ, স্থানীয়দের বক্তব্য এবং অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত মো. শহীদুল্লাহ্কে ৯ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
ইয়াবাসহ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক, কারাদণ্ড একই রাতে উপজেলার হইট্টলতলা-জঙ্গল পাইরাং এলাকা থেকে ইয়াবাসহ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জামাল হোসেন (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
স্থানীয় জনগণ ইয়াবাসহ তাকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ ও প্রশাসনকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ইয়াবাসহ ধরা পড়ার দায়ে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সম্পৃক্ততা
সিংগাইরে চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত ১