রামিসার কবরের পাশে মানুষের ঢল, খুনি দম্পতির দ্রুত ফাঁসি দেখতে চায় গ্রামবাসী

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার পশ্চিম শিয়ালদী গ্রামবাসী। মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণাকে তারা তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তবে শুধু রায় ঘোষণাই নয়, সরকারের কাছে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

গতকাল রবিবার (৭ জুন) দুপুরে জেলার পশ্চিম শিয়ালদী গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বললে এই প্রতিক্রিয়া জানা যায়। ওই গ্রামের আব্দুল হান্নান মোল্লা ও পারভীন আক্তার দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে ছোট মেয়ে ছিল রামিসা। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে এই দম্পতি সন্তানদের নিয়ে রাজধানীর পল্লবীতে বসবাস করতেন।

এদিকে মামলার রায় ঘোষণার পর মধ্যম শিয়ালদী গ্রামে রামিসার পারিবারিক কবরস্থানে তার দাদা হেলালউদ্দিন মোল্লা ও দাদী আনোয়ারা বেগমের কবরের পাশে শায়িত রামিসার কবর ঘিরে গ্রামবাসীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আশেপাশের গ্রামের মানুষও সমবেদনা জানাতে রামিসার গ্রামের বাড়িতে ছুটে আসেন।

শৈশবেই রামিসাকে হারানোর বেদনাবিদুর স্মৃতিচারণ করে তার ফুফু রিনা বেগম বলেন, ‘রামিসার মতো আর কাউকে আমরা হারাতে চাই না। দেশে এখন অনেক নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, ধর্ষণ করে মেরেও ফেলা হচ্ছে। রামিসার ঘটনার রায়ে ফাঁসি হলেই চলবে না, রায় কার্যকর দেখতে চাই। সরকারের কাছে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানাই।’

দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল মোল্লা। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত এই রায় কার্যকর করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটানোর সাহস কেউ না পায়।’

একই গ্রামের রুমা আক্তার বলেন, ‘একটি নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। দৃষ্টান্তমূলক এই শাস্তির মাধ্যমে সমাজে অপরাধ প্রবণতা রোধে একটি কার্যকর বার্তা পৌঁছে যাবে।’

আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন রামিসার মামাতো ভাই ইকবাল হাসান। তিনি বলেন, ‘আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণায় কিছুটা হলেও ভালো লাগছে, গ্রামবাসী স্বস্তি পাচ্ছে। এ জন্য আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া।’

রায় নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও তা বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. আরিফ। তিনি বলেন, ‘সঠিক একটি রায় হয়েছে এবং আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের দেশে অনেক ঘটনারই বিচার প্রক্রিয়ায় রায় ঘোষণা করা হলেও তা কার্যকর করতে দেখা যায় না। কাজেই রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার রায় দ্রুত কার্যকর করার জোর দাবি জানাচ্ছি।