সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধিগ্রহণকৃত ভূমি দখলমুক্ত করতে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। এর অংশ হিসাবে সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকার দুইপাশ থেকে ২ শতাধিক অবৈধ দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেয়।
এ উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফিফান নজমু বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য সিরাজগঞ্জকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা। সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় সরকার প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণও প্রদান করেছে। কিন্তু ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরও দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে অধিগ্রহণকৃত জমির দখল বুঝে পায়নি কর্তৃপক্ষ।
তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দখলমুক্ত করার উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, গণমাধ্যমে প্রচার, নোটিশ প্রদান ও মাইকিং সহ বিভিন্ন ভাবে সংশ্লিষ্টদের আগেই অবহিত করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও যারা তাদের অস্থায়ী ও স্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি, তাদের স্থাপনাই এখন উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
সওজ কর্তৃপক্ষ জানায়, সিরাজগঞ্জ- নলকা আঞ্চলিক মহাসড়কের কাটাওয়াপাড়া এলাকা থেকে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অধিগ্রহণকৃত জমিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বসবাস ও ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল। পূর্বে একাধিকবার নিজ দায়িত্বে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও অনেকেই তা মানেন নি। ফলে জনস্বার্থে এবং সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনকে উচ্ছেদ অভিযানে নামতে হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের কারণে সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। প্রশাসনের এ উদ্যোগে মহাসড়ক এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং ভবিষ্যতে যানজট কমবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।