সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের বিএনপি দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তার ব্যবহৃত গাড়ির একাধিক গ্লাসসহ বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রায়গঞ্জ উপজেলাজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেকোনো মূহূর্তে বড় ধরনের হামলা সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পর এমপি আয়নুল হক তার গাড়ি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ফলে তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বলে নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন। এ ঘটনার পর এমপি আয়নুল হক এক ফেসবুক লাইভে এসে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি এ হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। তার এ ফেসবুক লাইভে এমপি আয়নুল হক অভিযোগ করেন, হামলার সঙ্গে জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা জড়িত। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ হামলায় সংসদ সদস্য আয়নুল হক কোনো আহত হয়নি। তবে তার গাড়ির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক ও ধানগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম খান জানান, রায়গঞ্জ উপজেলায় একটি কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) নির্মাণের স্থান নির্ধারণের বিষয়ে শনিবার বিকেলে ধানগড়া বাজার এলাকায় একটি জরুরি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভাস্থলেই এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
রেজাউল করিম খান আরও বলেন, আমি শহরে থাকায় সভায় উপস্থিত ছিলাম না। কিছুক্ষণ আগে বিষয়টি জানতে পেরে রায়গঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছি।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধানগড়া বাজারসহ আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।