বাংলাদেশের পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতায় পিতৃতন্ত্র ও আধুনিক নারীবাদের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ক্রাতি’ এবার ইউটিউবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত এই চলচ্চিত্রে তুলে ধরা হয়েছে পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের অভ্যন্তরে চলমান নীরব টানাপোড়েন, আবেগিক সমঝোতা এবং অদৃশ্য সংগ্রামের গল্প।
চলচ্চিত্রটির নির্মাতা দিবারাহ মাহবুব। ভিজ্যুয়াল অ্যানথ্রোপলজি নিয়ে তার একাডেমিক গবেষণা এবং স্বাধীন শিল্পচর্চার অভিজ্ঞতা থেকেই ‘ক্রাতি’র ধারণার জন্ম। যুক্তরাজ্যের গোল্ডস্মিথস বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি চিত্রনির্মাণ, ক্ষমতার কাঠামো, গৃহস্থালি পরিসর এবং মানুষের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করেন। একটি ক্ষুদ্র সৃজনশীল ফেলোশিপের সহায়তায় নির্মিত ‘ক্রাতি’ তার প্রথম কাহিনিচিত্র। এর আগে তিনি প্রামাণ্যচিত্র ও ভিজ্যুয়াল অ্যানথ্রোপলজিভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন।
মুক্তির আগেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাড়া ফেলেছে চলচ্চিত্রটি। গত দুই বছরে বিশ্বের পাঁচ মহাদেশে প্রদর্শিত হয়েছে ‘ক্রাতি’ এবং অংশ নিয়েছে ১০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে।
চলচ্চিত্রটি স্পেনের বার্সেলোনা সিনে অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫-এ ‘সেরা প্রথমবারের নির্মাতা’ পুরস্কার অর্জন করে। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার পাওয়ার২৪ ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পেয়েছে ‘স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’। যুক্তরাজ্যের লন্ডন উইমেন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৫-এ সেরা পরিচালক ও প্রথমবারের নির্মাতা বিভাগে ফাইনালিস্ট হয় এটি। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারন্যাশনাল মাল্টিকালচারাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, তুরস্কের আনাতোলিয়া ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, ফ্রান্সের সিনে প্যারিস ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক চলচ্চিত্র উৎসবেও নির্বাচিত হয়েছে ‘ক্রাতি’।
চলচ্চিত্রটি নিয়ে নির্মাতা দিবারাহ মাহবুব বলেন, ‘আমার কাছে সাফল্য শুধু পুরস্কার বা উৎসবের স্বীকৃতিতে সীমাবদ্ধ নয়। বরং আরও বেশি বাংলাদেশি গল্প, মুখ, ভাষা, ঘরবাড়ি, টানাপোড়েন, হাস্যরস, বৈপরীত্য ও আবেগের সত্যকে বড় ও ছোট পর্দায় তুলে ধরার মধ্যেই এর মূল্য রয়েছে। একই সঙ্গে নারীদের অভিজ্ঞতা উপস্থাপনে প্রচলিত পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ জানানোও গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘সীমিত অর্থায়ন, অসীম যত্ন এবং স্বাধীন শিল্পীদের অর্থবহ কাজ করার সক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস থেকেই ‘ক্রাতি’ নির্মিত হয়েছে। আমি আশা করি, এটি নতুন বাংলাদেশি নির্মাতাদের জন্য আরও সহায়তা এবং বিকল্প গল্প বলার ক্ষেত্র তৈরিতে উৎসাহ জোগাবে।’
‘ক্রাতি’র চিত্রনাট্য, পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন দিবারাহ মাহবুব। চলচ্চিত্রটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাসনিম আরনা, পালমা আহমেদ, রন্টিক বিপু, দিবারাহ মাহবুব এবং চেনু মিয়া।
২০২৪ সালে নির্মিত এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মূল বিষয়বস্তু পিতৃতন্ত্র, নারীবাদ, পারিবারিক সম্পর্ক, লিঙ্গ বৈষম্য এবং সামাজিক কাঠামো। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসা পাওয়ার পর এবার ইউটিউবের মাধ্যমে দেশীয় দর্শকদের জন্যও উন্মুক্ত হলো ‘ক্রাতি’।