কুষ্টিয়ার সেই ৩ শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে অপহরণের ৪২ দিন পর ৩ শিশুকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই অপহরণে জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ ২জনকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। একই সাথে উদ্ধার ৩ শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে তুলে দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পোড়াদহ রেলওয়ে থানা পুলিশ। 

উদ্ধারকৃত শিশুরা হলো- কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার উত্তর কাটদহ এলাকার সুমনের ছেলে সিফাত (১০), হাসেমের ছেলে রাজ (১০) এবং বেলাল হোসেনের ছেলে মোমিন (৯)। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জনবহুল শহরে এসব শিশুদের জোড়পূর্বক ভিক্ষাবৃত্তি চক্রের কাছে বিক্রির জন্য অপহরণ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পুলিশের। 

এ বিষয়ে সোমবার বিকেলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে খুলনা জেলা রেল পুলিশ সুপার মঈনুল হাসান জানান, গত ২৭ এপ্রিল সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন থেকে সিফাত ও মোমিন নামের দুই শিশুকে অপহরণ করে নিয়ে যায় চক্রটি। অপহৃত সিফাতের মা শেফালী আক্তার গত ৬ জুন রাতে পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় শিশু অপহরণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। এই মামলার তদন্তে অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী চক্রের সদস্য ফতে আক্তার (২১) ও শাহানাজ বেগম (৪০) নামে দুই নারীকে আটক করে রেল পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুই নারী ২ শিশুকে অপহরণ করার কথা স্বীকার করে। তারা জানায় প্রথমে মহানন্দা লোকাল ট্রেনে করে ২ শিশুকে প্রথমে যশোরে নিয়ে বিক্রি করে দেয়। সেখান থেকে পরে তাদের ঢাকায় নিয়ে যায় চক্রটি। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে ঢাকায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে তিন শিশুকে উদ্ধার করে। এঘটনায় রেলওয়ে থানায় পৃথক দুটি অভিযোগে মামলা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে এই অপহরণ চক্রের আরও কয়েকজনের জড়িত থাকার তথ্য উঠেছে এসেছে। তাদেরও শিগগিরই গেপ্তার করে আদালতে সৌপর্দ করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

অপহৃত শিশু সিফাতকে ৪২ দিন পর ফিরে পেয়ে খুশি মা শেফালী আক্তার রেল পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এভাবে নিষ্পাপ শিশুদের অপহরণে যারা জড়িত তাদেরও দৃষ্টান্তমূল শাস্তি দাবি করেন এই মা।