নাইটক্লাবে মারামারি: অধিনায়কত্ব হারাতে পারেন বেন স্টোকস

লন্ডনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দারুণ জয়ের পরেই বড় ধরনের বিতর্কে জড়ালেন ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকস এবং ফাস্ট বোলার গাস অ্যাটকিনসন। টিম ম্যানেজমেন্টের বেঁধে দেওয়া ‘মিডনাইট কারফিউ’ (রাত ১২টার মধ্যে হোটেলে ফেরার নিয়ম) ভেঙে চেলসির একটি নাইটক্লাবে যাওয়ায় শাস্তির মুখে পড়েছেন এই দুই ক্রিকেটার। এই ঘটনার জেরে স্টোকস তার টেস্ট অধিনায়কত্ব হারাতে পারেন এবং অ্যাটকিনসন দল থেকে বাদ পড়তে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন উঠেছে।

ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড ইতিমধ্যেই এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। আগামী ১৭ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হওয়ার আগেই জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?

বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার ভোরে চেলসির একটি নাইটক্লাবে সারাসেন্স রাগবি ক্লাবের একাডেমির এক খেলোয়াড়ের সাথে স্টোকস ও অ্যাটকিনসনের কথা-কাটাকাটি হয়, যা পরবর্তীতে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, ওই রাগবি খেলোয়াড় প্রথমে গাস অ্যাটকিনসনকে লক্ষ্য করে ঘুষি চালান। তবে সেই ঘুষি সরাসরি গিয়ে লাগে ক্রিকেটারদের সাথে থাকা ইসিবির নিরাপত্তা রক্ষীর গায়ে। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে, তাৎক্ষণিকভাবে সেই নিরাপত্তা রক্ষীকে জরুরি চিকিৎসা দিতে হয় এবং তার ক্ষতস্থানে সেলাই করতে হয়েছে। অবশ্য এই মারামারিতে বেন স্টোকস কিংবা অ্যাটকিনসন কোনো আঘাত পাননি।

লন্ডন পুলিশের হস্তক্ষেপ ছাড়াই নাইটক্লাবের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সমাধান হয়। ইসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনায় ক্রিকেটাররা প্রথমে উসকানি দেননি, বরং ওই রাগবি খেলোয়াড়ই মূলত মারামারির সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন।

ঘটনাটি স্বীকার করে ইসিবি একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে,"সোমবার ভোরে একটি নাইটক্লাবে বেন স্টোকস এবং গাস অ্যাটকিনসনের উপস্থিতিতে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আমরা বর্তমানে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি। দ্বিতীয় টেস্টের দল ঘোষণার সময় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।"

অস্ট্রেলিয়া সফরের অ্যাশেজ সিরিজে ইংলিশ ক্রিকেটারদের অতিরিক্ত মদ্যপান এবং অপেশাদার আচরণের অভিযোগ ওঠার পর, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ক্রিকেটারদের জন্য রাত ১২টার মধ্যে হোটেলে ফেরার কড়া নিয়ম (কারফিউ) পুনরায় চালু করেছিল ইসিবি। সেই নিয়ম ভাঙার কারণেই এবার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে বোর্ড।

​হ্যারি ব্রুকের হাতে কি উঠছে নেতৃত্ব?

​স্টোকস যদি বরখাস্ত হন কিংবা বিরতিতে যান, তবে অদ্ভুত এক সমীকরণ তৈরি হবে ইংলিশ ক্রিকেটে। আগামী ১৭ জুন ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিতে পারেন হ্যারি ব্রুক। অথচ মাত্র ছয় মাস আগেই ওয়েলিংটনে এক নাইটক্লাবের বাইরে বাউন্সারের মার খেয়ে ব্রুক নিজেও চাকরি হারানোর কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন।

​মাত্র ২৭ বছর বয়সী ব্রুকের পরিপক্বতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, ম্যাককালামের সাথে তার সম্পর্ক দারুণ রসালো। ক্রিকেট মহলের মতে, ব্রুককে টেস্ট অধিনায়কত্ব দেওয়া হবে এক বিশাল জুয়া, যার ওপর নির্ভর করছে আগামী বছরের ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ ভাগ্য।