মমতার বাড়িতে সিআইডি, যা জানা গেল

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে করে রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে সিআইডির বিশেষ দলের উপস্থিতিকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকালে প্রায় ১৭ সদস্যের একটি দল ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে পৌঁছে তল্লাশির উদ্যোগ নিলে বাধার মুখে পড়ে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য শুভাশিস চক্রবর্তী। তিনি সিআইডি কর্মকর্তাদের জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন। তাদের অনুপস্থিতিতে বাড়ি বা দলীয় কার্যালয়ে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া সম্ভব নয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে সিআইডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভাশিস চক্রবর্তীর দীর্ঘ সময় বাগবিতণ্ডা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা দাবি করেন, তাদের কাছে আইনানুগ কাগজপত্র রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে প্রবেশের অধিকারও রয়েছে। 

অন্যদিকে শুভাশিস চক্রবর্তী বারবার অনুরোধ জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ফিরে এলে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সিআইডি কর্মকর্তারা এলাকায় অবস্থান করছিলেন এবং বাড়ির সামনে নিরাপত্তা বলয় জোরদার করা হয়। 

বিরোধী মহলের একাংশের অভিযোগ, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাদের দাবি, আইনের শাসনের আড়ালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে সরকারের ঘনিষ্ঠ মহল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, আইন অনুযায়ী তদন্ত চলছে এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। কোনো অভিযোগ সামনে এলে তদন্তকারী সংস্থার কাজ হলো তা খতিয়ে দেখা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি শুধু একটি তদন্ত বা তল্লাশির প্রশ্ন নয়; বরং পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক সংঘাতের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। একদিকে প্রশাসনের আইন প্রয়োগের যুক্তি, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপের অভিযোগ এই দুই অবস্থানের সংঘাতে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবন দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সেই জায়গায় তদন্তকারী সংস্থার উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। 

এদিকে শুভাশিস চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, তিনি কোনো তদন্তে বাধা দেননি। শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুপস্থিতিতে কাউকে প্রবেশ করতে দিতে পারেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি সিআইডিকে কয়েক দিন পর আবার আসার অনুরোধ করেছেন।