পুশইনের ভারতীয় চেষ্টা অব্যাহত

ভারতে ‘বাংলায় কথা বলে’ এমন লোকদের সীমান্ত পথে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে জামালপুর-কুড়িগ্রাম সীমান্তে এক রাতে শতাধিক মানুষকে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। তবে সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তায় পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।

দুই দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ে সম্মেলন দিল্লিতে শুরু হয়েছে। বিএসএফ গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম এক্স ও ফেসবুকে দুই প্রতিনিধিদলের ছবিসহ পোস্ট দিয়ে এ কথা জানায়।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী ও বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার যথাক্রমে বাংলাদেশ ও ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে গতকাল সম্মেলনের প্রথম বৈঠকে বিজিবির দিক থেকে পুশইন, সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যাকা-ের শিকার হওয়া ও ভারতের দিক থেকে মাদকসহ বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালানসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়।

অন্যদিকে বিএসএফ সীমান্তে সংগঠিত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা- সম্পর্কে ভারতীয় অবস্থান তুলে ধরে।

ট্রাকযোগে পুশইনের লোক : জামালপুর সীমান্তে গত সোমবার রাত ১২টার পর ট্রাকযোগে শতাধিক লোককে নিয়ে এসে আটটি স্থানে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

অধিনায়ক বলেন, পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে তারা ব্যর্থ হয়। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও সজাগ রয়েছে। যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।

পুশইন বন্ধ চায় জামায়াত : সীমান্তে জোর করে ‘ভারতীয় নাগরিকদের’ বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর (পুশইন) চেষ্টাকে বেআইনি, অন্যায় এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত হিসেবে অভিহিত করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গতকাল এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন। 

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভারত সরকার তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে ভারতীয় সংবিধান, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদ লঙ্ঘন করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এ ধরনের কর্মকা-ের প্রতিবাদ জানালেও ভারত সরকার তা আমলে নিচ্ছে না।

জামায়াত নেতা বলেন, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, মেহেরপুর ও শেরপুরসহ প্রায় ১১ জেলায় বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ৩২০ ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার চিঠি পাঠালেও ভারতের কাছ থেকে জবাব পায়নি।

তিনি ভারতের আগ্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। 

বাংলাদেশের জনগণ কোনো অবস্থাতেই বিদেশি চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে না এমনটি উল্লেখ করে তিনি সীমান্তে পুশইনের মতো কার্যক্রম বন্ধ করে প্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান।