অভিযান নয়, পিটি-প্যারেড দেখবেন কর্তারা

বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে ঢাকার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা জেলা ও মেট্ট্রো ইউনিটগুলোর পিটি-প্যারেড দেখবেন। কোনো ত্রুটি হলে নির্দেশনা দেবেন এখান থেকেই। এই বডি ওর্ন  ক্যামেরা কেনার উদ্দেশ্য ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহারের পর থানা পুলিশসহ অপারেশনাল ইউনিটগুলোর কার্যক্রম মনিটরিং করা। কিন্তু অপারেশনাল কার্যক্রমে সেগুলো তেমন ব্যবহার হচ্ছে না। এদিকে পিটি-প্যারেডে বডি ওর্ন  ক্যামেরার ব্যবহার নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেক কর্মকর্তা।

পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাঠপর্যায়ে বডি ওর্ন  ক্যামেরা ব্যবহার হচ্ছে না বললেই চলে। এ ছাড়া অপারেশনাল কাজে ক্যামেরা ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সদর দপ্তর থেকে অভিযান ও মোবাইল ডিউটিতে বডি ওর্ন  ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও গা ছাড়াভাব ইউনিটগুলোর। তবে কিছু ক্যামেরা ব্যবহার করছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। সারা দেশে পুলিশের ইউনিটগুলোতে ২৫ হাজার ক্যামেরা সক্রিয় রয়েছে।

সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পিটি-প্যারেডে বডি ওর্ন  ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে ইউনিটগুলোতে। দেশ রূপান্তরের হাতে আসা ওই চিঠিতে পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত পিটি-প্যারেডে অংশগ্রহণের তথ্য প্রেরণ এবং বডি ওর্ন  ক্যামেরার ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। বডি ওর্ন  ক্যামেরা পিটি-প্যারেডে ব্যবহার করলে অডিও-ভিডিও সংরক্ষণের পাশাপাশি পিটি-প্যারেড চলাকালীন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনিটরিং সেন্টারের মাধ্যমে সরাসরি মনিটর করতে পারবেন। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিতে পারবেন।

নির্দেশনায় বলা হয়, পিটি-প্যারেড চলাকালে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের রিজার্ভ ইন্সপেক্টর (আরআই) পুলিশ পরিদর্শক (সশস্ত্র), এসআই (সশস্ত্র) কর্তৃক বডি ওর্ন  ক্যামেরা ব্যবহারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া বডি ওর্ন  ক্যামেরা বরাদ্দকরণের ক্ষেত্রে নির্দেশনা অনুসরণ এবং ক্যামেরা ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য সদর দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই চিঠিতে সব জেলা ও মেট্রোপলিটনে বরাদ্দকৃত ক্যামেরা থেকে পুলিশ লাইন্সের আরআইয়ের অনুকূলে একটি করে বডি ওর্ন  ক্যামেরা বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) ক্ষেত্রে জেলায় বরাদ্দকৃত ক্যামেরা থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে আরআই ও আরআরএফের অনুকূলে একটি করে বডি ওর্ন  ক্যামেরা (সিমসহ) বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বডি ওর্ন  ক্যামেরা যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে দিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে বডি ওর্ন ক্যামেরা হারানো কিংবা কোনো ক্ষতি হলে দায়দায়িত্ব ব্যবহারকারীর ওপর বর্তাবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের আরেক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনের সময় জেলা ও মহানগর ইউনিটগুলোতে প্রয়োজনমাফিক সরবরাহকৃত ক্যামেরা রয়েছে। কোনো ইউনিট থেকে তা ক্লোজ করা হয়নি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ২১০০ ক্যামেরা এবং দিনাজপুর জেলায় ১৩০০ ক্যামেরাসহ প্রায় প্রতিটি থানায় শতাধিক ক্যামেরা রয়েছে। তার দাবি, পিটি-প্যারেডে ক্যামেরা অপারেটিংও শেখানো হবে।

এ বিষয়ে একাধিক পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক দিন থেকেই বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার হচ্ছে পিটি-প্যারেডে। তবে ক্যামেরা অপারেটিংয়ের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সাধারণত জেলা, মহানগর পুলিশ, পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি), রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএিন) মতো বিশেষায়িত ইউনিটের রিজার্ভ ফোর্স ভোর ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত পিটি-প্যারেড (শারীরিক কসরত) করেন। এতে ফোর্সের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

একটি সূত্র বলছে, পুলিশের হাইওয়ে, নৌপুলিশ ও রেলওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে বডি ওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হয়নি। তবে বিভিন্ন ইভেন্ট ঘিরে এ ইউনিটগুলোতে জেলা ক্যামেরা এনে দেওয়া হয়। সেখানে পিটি-প্যারেডে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার কতটা যুক্তিসঙ্গত তা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊধ্বর্তন পুলিশ কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সারা দেশের সব থানায় ৫০টির অধিক ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে, যা ইতিমধ্যে অপারেশনে ব্যবহৃত হচ্ছে। ক্যামেরার ব্যাটারি ৬ ঘণ্টা সাপোর্ট দেবে। এ জন্য প্রতি সদস্যের কাছে একাধিক ব্যাকআপ ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে। একটি ক্যামেরা ২৪-৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইভে রেখে দেখা হয়েছে। ছোটখাটো যেসব সমস্যা ধরা পড়েছে, সেসব সমাধান করা হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানা গেছে, বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সুবিধার্থে প্রতিটি থানায় ডক স্টেশন করা হয়েছে। ওই স্টেশন থেকে তার আওতাধীন ব্যবহৃত ক্যামেরা মনিটরিং করবে। প্রতিটি ডক স্টেশন একেকটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। থানার নির্ধারিত একজন করে এসআই পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা স্টেশনে বসে মাঠের কার্যক্রম মনিটরিং করবেন। এ ছাড়া পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, উপপুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সুপারের দপ্তরে পৃথক ডক স্টেশন প্ল্যাটফর্ম থাকবে। এর জন্য সারা দেশে ৭২০টি প্ল্যাটফর্ম বসানো হচ্ছে।

পুলিশের মুখপাত্র এআইজি এএইচএম শাহাদাত হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুলিশের অপারেশনাল কাজে স্বচ্ছতা নিয়ে আসতে বডি ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশের সব থানায় ক্যামেরার ব্যবহার শুরু হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি পিটি-প্যারেডেও ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।