আয়োজনটি সুন্দর ও সবার কাছে উপভোগ্য হোক

জীবন্ত কিংবদন্তি সৈয়দ আব্দুল হাদী। ১ জুলাই ৮৬ বছরে পা রাখতে যাচ্ছেন কালজয়ী এই কণ্ঠশিল্পী। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আগামী ১২ জুন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় তাকে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির মূল মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের নাম রাখা হয়েছে ‘কালজয়ী কণ্ঠ : শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সৈয়দ আব্দুল হাদী’। এই বিশেষ সম্মাননাপ্রাপ্তি নিয়ে কথা হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক আনন্দ

রাষ্ট্রীয়ভাবে আপনাকে নিয়ে বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। শিল্পী হিসেবে এই মুহূর্তে আপনার অনুভূতি কেমন?

দেখুন, দীর্ঘ সংগীতজীবনে দেশের মানুষের, শ্রোতা-ভক্তদের এত এত ভালোবাসা আর সম্মান আমি পেয়েছি যে, জীবনের এই পর্যায়ে এসে নতুন কোনো প্রাপ্তি বা সম্মাননা আমাকে আলাদাভাবে খুব বেশি পুলকিত বা আনন্দিত করে না। তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এটা একজন শিল্পী হিসেবে অবশ্যই ভীষণ ভালো লাগার। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও শিল্পকলা একাডেমির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

‘কালজয়ী কণ্ঠ : শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সৈয়দ আব্দুল হাদী’ শিরোনামের এই আয়োজনটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ও শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় এটি এ ধরনের দ্বিতীয় আয়োজন। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনকে নিয়ে এমন চমৎকার অনুষ্ঠান হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আমাকে ঘিরে এই উদ্যোগ। আশা করছি, আয়োজনটি অত্যন্ত সুন্দর এবং সবার কাছে উপভোগ্য হবে।

আপনার কণ্ঠের কালজয়ী গানগুলো শ্রোতারা আবার নতুন করে শুনবেন। অনুষ্ঠানে কি আপনার নিজের কণ্ঠেও কোনো গান শুনতে পাবেন ভক্তরা?

এই আয়োজনে আমি নিজে কোনো সংগীত পরিবেশন করছি না। তবে এই প্রজন্মের বেশ কয়েকজন চমৎকার শিল্পী আমার গাওয়া কালজয়ী গানগুলো আমন্ত্রিত শ্রোতা-দর্শকদের গেয়ে শোনাবেন। তালিকায় আছেন রাশেদ, আতিক, অপু আমান, কোনাল, অনন্যা, সুস্মিতাসহ বেশ কয়েকজন। তারা এরই মধ্যে শিল্পকলা একাডেমিতে গানগুলোর প্র্যাকটিসও শুরু করে দিয়েছে। যারা এই আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করবে, তাদের প্রত্যেকের জন্য আমার পক্ষ থেকে অনেক শুভকামনা ও দোয়া রইল।

শুনেছি অনুষ্ঠানটিতে আপনার জীবনের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে?

হ্যাঁ, অনুষ্ঠানে আমাকে নিয়ে নির্মিত একটি বিশেষ তথ্যচিত্র দেখানো হবে। ইতিমধ্যেই আমার ধানম-ির বাসায় এই তথ্যচিত্রের শুটিং ও বাকি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি, এর মাধ্যমে শ্রোতারা আমার সংগীতজীবনের কিছু অজানা বা চেনা গল্প নতুন করে দেখতে পাবেন।

চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের জন্য আপনি পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। ‘আছেন আমার মোক্তার’, ‘চোক্ষের নজর এমনি কইরা’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি’র মতো গানগুলো দশকের পর দশক ধরে মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। আপনার দৃষ্টিতে এই কালজয়ী গানগুলোর স্থায়ী আবেদনের রহস্য কী?

আসলে তখনকার সময়ে গান তৈরির পেছনে এক ধরনের সততা, সাধনা আর নিখাদ আবেগ ছিল। গীতিকার, সুরকার এবং শিল্পী সবার মধ্যে একটা আত্মিক যোগাযোগ তৈরির কারণে একটি সৃষ্টিকে অমর করে রাখত। আজ এত বছর পরও যখন তরুণ প্রজন্মের শিল্পীরা এই গানগুলো গায় আর শ্রোতারা পরম আগ্রহে শোনে, তখন মনে হয় শিল্পী হিসেবে জীবনটা সার্থক। আগামী ১ জুলাই ৮৬ বছরে পা দেব, জীবনের এই প্রান্তে এসে শ্রোতাদের এই ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।