ফুটপাতে চাঁদা নিয়ে দ্বন্দ্বে বিল্লাল খুন

রাজধানীর মৌচাক আনারকলি মার্কেটের সামনে ফুটপাতে দোকান বসানো এবং বিদ্যুৎ বিল ও ময়লা ফেলার বিলের নামে চাঁদা তুলতেন দিদারুল ইসলাম বাবু। ওই টাকা নিয়ে নিহত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদারের সঙ্গে কিছুদিন যাবত দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। চাঁদা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই বিল্লাল খুন হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকা-ে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে রমনা থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই মার্কেটের সামনে একটি দোকান চালান নিহত বিল্লালের ভাগিনা মোবারক হোসেন আকাশ। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বাবুর লোকজন আকাশের কাছে চাঁদা দাবি করলে দিতে অস্বীকার করে। পরে বাবুর লোকজন তাকে মারধর করেন। বিষয়টি মামা বিল্লালকে ফোনে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। সেখানে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিল্লালকে ছুরিকাঘাত করেন বাবুর অনুসারীরা।

গত সোমবার রাতে মৌচাক এলাকায় যুবদলের নেতাকর্মীদের ছুরিকাঘাতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল মারা যায়। গতকাল মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিল্লালের প্রথম জানাজা হয়। সেখান থেকে শরীয়তপুর গ্রামের বাড়িতে দাফনের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাহাৎ খান বলেন, আনারকলি মার্কেটের সামনে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে কিছুদিন যাবৎ ঝামেলা চলে আসছিল দুইপক্ষের মধ্যে। সেই জেরেই এই হত্যাকান্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় নিহত বিল্লালের স্ত্রী আম্বিয়া বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। সেখানে যুবদলের রমনা থানার আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবু, রমনা থানার সেক্রেটারি লুৎফর, সিরাজ, রিয়াদুল ও আল আমিনসহ তার অনুসারীদের ২১ নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞতানামা আরও ২৭জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত রাতেই মুন্সীগঞ্জ থেকে রিয়াদুল এবং ঢাকা থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মোবারক হোসেন আকাশ জানান, সন্ধ্যায় আনারকলি মার্কেটের সামনে কয়েকজন মিলে তার কাছে চাঁদা দাবি করে। দিতে না চাইলে মারধর করে। এই ঘটনা মামা বিল্লাল হোসেনকে জানালে তিনি এসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন যুবদলের রমনা থানার আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবু ও তার সঙ্গে থাকা রমনা থানার সেক্রেটারি লুৎফরের তর্কাতর্কি হয় বিল্লালের। একপর্যায়ে বাবুর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। এতেই মামার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার ও হত্যাকা-ের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান আকাশ।