ঝরল কোটি টাকা, সরল না পানি

সাধারণত রাস্তার পাশে গর্ত করে বানানো হয় ড্রেন। তবে, রাজশাহী নগরীর উত্তর চকপাড়া এলাকায় একটি অস্বাভাবিক ড্রেন বানিয়েছে রাজশাহী সিটি করর্পোরেশন। যেখানে ড্রেন করা হয়েছে রাস্তার ওপর। ২০২২ সালে নির্মিত হলেও এটি এখনো চালুই হয়নি। চালু করার সুযোগও নেই। কারণ আশপাশের বাড়িঘরের চেয়ে তো বটেই, ড্রেনটি রাস্তার থেকেও অনেকটাই উঁচু। এই ড্রেন এখন এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কারণ।  

রাজশাহী নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চকপাড়া এলাকায় গেলে যে কারোরই চোখে পড়বে অস্বাভাবিক ড্রেনটি। রাস্তার থেকে উঁচু করে বানানো এই ড্রেনটিতে খরচ হয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ৭৯৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে এই ড্রেন নির্মাণের পর এই মহল্লার মানুষের জীবনমান কমে গেছে। যে রাস্তাটির ওপর ড্রেন বানানো হয়েছে, এটি আগে ছিল প্রায় ২০ ফুট। ড্রেন বানানোর পর এর প্রশস্ততাও কমেছে অর্ধেকটা।

গত ৪ বছর ধরে এলাকার মানুষ এই অস্বাভাবিক ড্রেনের দুর্ভোগে নাকাল। প্রশস্ত রাস্তাটি দিয়ে আগে রিকশা ছাড়াও যান্ত্রিক ছোট যানবাহন চলাচল করত। এখন সেটি পায়ে হাঁটা কাদামাটির পথে পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধায় আটকে যায় এখানকার মানুষের স্বাভাবিক জীবন। শহরের ভেতরে পিছিয়ে পড়া গ্রামে পরিণত হয়েছে এই মহল্লাটি।

স্থানীয় বাসনিন্দরা বলছেন, তারা গ্রামের কাঁচা রাস্তাটি ঠিক করার আবেদন করেছিলেন। পাকা রাস্তা হলে মানুষের চলাচল সহজ হবে। কিন্তু ২০২২ সালে এখানে রাস্তা না করে সিটি করপোরেশন ড্রেন বানানোর কাজ শুরু করে। ওই সময় ঠিকাদাররা এলাকাবাসীকে বলেছিলেন, এখানে ড্রেন বানানোর পর রাস্তাও হবে। কিন্তু ড্রেনটি বানানো শেষ হলে চলে যায় ঠিকাদার। রাস্তার কাজ আর হয়নি। ওই সময় গ্রামের শেষ মাথার একটি বাড়ির সাথে সীমানা নিয়ে জটিলতা হয়েছিল। এই জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে সিটি করপোরেশন সেখানে আর রাস্তা বানানোর উদ্যোগই নেয়নি। 

স্থানীয়রা জানান, রাস্তা থেকে উঁচুু করে ড্রেন বানানো দেখে নির্মাণের সময়ই তারা বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু ওই আপত্তি গুরুত্ব পায়নি। এখন সেই পরিকল্পনার খেসারত দিতে হচ্ছে পুরো এলাকাবাসীকে। তারা বলছেন, ড্রেন নির্মাণের আগে এলাকায় জলাবদ্ধতা ছিল না। রিকশা, ভ্যানসহ ছোট যানবাহন সহজেই চলাচল করতে পারত এই রাস্তা দিয়ে। কিন্তু ড্রেন নির্মাণের পর সড়কের বড় একটি অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আবার সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা কাদাময় হয়ে পড়ে এবং পানি জমে থাকে দুই পাশে। বর্ষা মৌসুমে এখানকার অনেক বাড়িই জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। অনেক বাড়ির আঙিনা পর্যন্ত পানি উঠে যায়।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের সচিব ফারুক আহমেদ বলেন, ড্রেন নির্মাণের সময় এলাকাবাসী এর উচ্চতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। ড্রেনের লেভেল ও উচ্চতা নির্ধারণে কোনো ত্রুটি হয়েছে কিনা, তা প্রকৌশলীরাই ভালো বলতে পারবেন। 

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, বিগত সময়ে অনেক কাজই অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয়ভাবে হয়েছে। সেগুলো দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ড্রেনটি সম্পর্কে আমি নতুন করে অবগত হয়েছি। আমাদের কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখছেন। প্রয়োজন হলে আমি নিজেও সরেজমিন পরিদর্শন করব।