নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান সরকারি চাকরিজীবীরা

নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশ পূর্ণাঙ্গ ও অবিলম্বে কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। দীর্ঘ ১১ বছর নতুন কোনো বেতন কাঠামো না হওয়া এবং সাম্প্রতিক সময়ে আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই দাবি জোরালো হয়েছে। বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরাম, সংযুক্ত পরিষদ এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ বিবৃতিতে এই হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়।

এতে বলা হয়, প্রায় ১১ বছর আগে, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেলের নোটিফিকেশন অনুযায়ী সব গ্রেডের ক্ষেত্রে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ হওয়ায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনমান, জীবনধারণ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় যৌক্তিক হারে বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি। এছাড়াও একজন কর্মচারী বেতন গ্রেডের শেষ ধাপে উন্নীত হবার পর পরবর্তী পদোন্নতি না হলে তার বেতন বৃদ্ধির আর কোনো সুযোগ নেই।

গত একযুগে ৫০ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতি হওয়ায় একজন সরকারি কর্মচারীর মৌলিক চাহিদার খাদ্যসামগ্রীর মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া শিক্ষা ব্যয়, স্বাস্থ্য ব্যয় ও আনুষঙ্গিক ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৯ লাখ ১৯ হাজার ১১১ জন কর্মচারী রাষ্ট্রের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকারি কর্মচারীদের দাবির প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে।

বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন ও অংশীজনের সঙ্গে প্রায় ১৮৪টি সভা ও ২ হাজার ৫৫২ জনের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে চূড়ান্ত সুপারিশ গত ২১ জানুয়ারি সরকারের নিকট দাখিল করে। অদ্যাবধি বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় কর্মচারীদের মাঝে হতাশা ও দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে।

সরকারি কর্মচারীরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি ‘নবম জাতীয় পে-স্কেল’ বাস্তবায়নের যৌক্তিক দাবির বিপক্ষে কিছু বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক মন্তব্য বিভিন্ন যোগাযোগ ও সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির এক যুগ পর এসে সিপিডি বলতে চেয়েছে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হলে তা বাজারে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে তুলবে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে তাদের ওপর তীব্র অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি ম. নূরুল ইসলাম বলেন, নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বর্তমান সরকার কার্যকর করতে খুবই আন্তরিক। তার আন্তরিক বলেই বিষয়টিতে সক্রিয় বিবেচনা করছে। এ পর্যায়ে এসে এ ধরনের বক্তব্য প্রদান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। কর্মচারীদের দাবিকে অযৌক্তিক বা নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা মোটেও কাম্য নয়। এতে কর্মচারীদের মনোবল ভেঙে পড়ে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১১ বছর ২০১৫ সালের পর থেকে আজ অবধি নতুন কোনো পে-স্কেল না হওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বি হওয়ায় নির্দিষ্ট বেতনের সরকারি কর্মচারীরা তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য, সন্তানের শিক্ষা, জীবনধারণ, জীবনমান, বাসস্থান, যাতায়াতসহ মৌলিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে তীব্র আর্থিক সংকটে রয়েছেন, যা পূর্বের ও বর্তমানের বাজারের সঙ্গে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়।

এ অবস্থায়, অনতি বিলম্বে নবম জাতীয় পে-স্কেল পূর্ণাঙ্গ কার্যকর করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সচিবালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।