দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চালুর উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নবম জাতীয় পে-স্কেলের খসড়া নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং চলতি মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হতে পারে। এ লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামোয় বর্তমানে চালু থাকা ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ রয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হতে পারে।
অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা : সংশ্লিষ্টদের মতে, কমিশনের সব সুপারিশ একসঙ্গে কার্যকর করতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। এ কারণে সরকার ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে।
প্রাথমিকভাবে আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পরে অবশিষ্ট অংশ পরবর্তী দুই বছরে পর্যায়ক্রমে সমন্বয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের চাপ তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পেনশনভোগীরাও পাবেন সুবিধা : নতুন পে-স্কেলের আওতায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। দেশের প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীর আর্থিক সুরক্ষা বাড়ানোর লক্ষ্যে তাদের পেনশন বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবনায় কিছু ক্ষেত্রে পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হতে পারে।
মতভেদ ও অর্থনৈতিক প্রভাব : তবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের একটি অংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতায় নতুন পে-স্কেল এক ধাপেই কার্যকর করা উচিত।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন বেতন কাঠামো চালু হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, যা বাজারে ভোগব্যয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে একই সঙ্গে সরকারের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, ফলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এখনো নতুন পে-স্কেল বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে সরকারি গেজেট ও বাজেট ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।