২৯ বছরের বেশি সময় আগে চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তার দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এই আদেশ দেন। আজ বুধবার ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম এ তথ্য বাসসকে নিশ্চিত করেন। গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. জিয়াউল মোর্শেদ কবর থেকে সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সংযুক্ত করার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, মামলার বাদী মো. আলমগীর (৬৮) নিলুফা জামান নীলা চৌধুরীর (সালমান শাহর মা) পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে জানান যে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাদীর বোন নিলুফা জামান চৌধুরী নীলা চৌধুরী, বাদীর ভগ্নিপতি মৃত কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং তার ছোট ছেলে শাহরান শাহ্সহ নিউ ইস্কাটন রোডস্থ ইস্কাটন প্লাজা ১১/বি ঠিকানার বাসায় তার ভাগিনা চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। তখন স্ত্রী সামীরা হক এবং কর্মচারী আবুল তাদেরকে জানান যে, সালমান শাহ ঘুমিয়ে আছেন। তখন তারা তাদের গ্রিনরোডের বাসায় চলে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহর বাসা থেকে টেলিফোন করে জানানো হয়, সালমান শাহর যেন কী হয়েছে, তাড়াতাড়ি আসেন। তখন তারা দ্রুত নিউ ইস্কাটন রোডস্থ ইস্কাটন প্লাজা ১১/বি ঠিকানার বাসায় এসে দেখেন যে, সালমান শাহ তার শয়নকক্ষে খাটের উপরে মরার মতো পড়ে আছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে তারা সালমান শাহকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিম সালমান শাহকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার প্রাঙ্গণ কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই রমনা থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার ২৯ বছর পর গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার একটি আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সালমান শাহের দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের এ নির্দেশ এল।