পাবনায় ছেলের সামনে বাবা হোসেন আলী ওরফে হোসেন ঠাকুরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলার পর অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিদের এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি অবিস্ফোরিত গুলি এবং একটি গুলির খোসা জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ। এর আগে বুধবার ভোররাতে পাবনার বিভিন্ন এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রামের আকমল খাঁর ছেলে মতিয়ার রহমান (৪০), পুষ্পপাড়া গ্রামের মৃত আমিন প্রামাণিকের ছেলে শরীফ প্রামাণিক (৩৫) এবং জাফরাবাদ গ্রামের সোহরাব মোল্লার ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৮)।
তবে হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি জাফরাবাদ পুরাতনপাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মনিরুল ইসলাম ওরফে তোতা (৩৫) এবং গোপলার ছেলে শাহীন (২৮) বুধবার পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি। গ্রেপ্তারকৃত তিনজন এজাহারভুক্ত আসামি নন।
পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চরমপন্থী সংগঠন পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এবং পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা)-এর আঞ্চলিক নেতা ও সদস্যদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই প্রায় এক মাস আগে হোসেন আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় পাবনা শহরের মাসুম বাজার এলাকায় অবস্থিত জামেয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় ছেলে রোহানকে (১২) ভর্তি রাখতে গিয়েছিলেন তার বাবা হোসেন আলী (৫৫)। মাদ্রাসার গেটে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই ছেলের সামনেই দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ জুন) নিহত হোসেন আলীর স্ত্রী আফসানা খাতুন বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে পাবনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।