প্রধানমন্ত্রীকে অর্ধশত দাবি জানাবে কক্সবাজারবাসী

সরকার গঠনের চার মাসের মধ্যে আগামী শনিবার পর্যটন নগরী কক্সবাজারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই আগমন ঘিরে চাওয়া-পাওয়া আর প্রত্যাশার হিসাব খুলে বসেছেন কক্সবাজারবাসী। যৌক্তিক প্রায় অর্ধশতাধিক দাবি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হবে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে বরণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা বিএনপি। জেলা প্রশাসনও ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সফর ঘিরে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রশাসনিক অনুষ্ঠান ও জনসভায় অংশ নেবেন। কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছে পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখনন উদ্বোধন শেষে চকরিয়ার ডুলহাজারা সাফারি পার্কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মো. ওয়াসিমের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নবগঠিত মাতারবাড়ী উপজেলা ও পেকুয়া পৌরসভার প্রশাসনিক বিভাগের উদ্বোধন করবেন। বিকেলে চকরিয়ায় জনসভায় ভাষণ দেবেন। রাত ৮টায় লবণ ফেস্ট উদ্বোধন করে রাত ১০টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কক্সবাজারবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। জেলার উন্নয়ন ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিভিন্ন মহল থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। এসব দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, কক্সবাজার শহরকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন নগরী ও সিটি করপোরেশন ঘোষণা, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে মেডিকেল কলেজে হাসপাতাল স্থাপন, কক্সবাজার সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও  কক্সবাজার থেকে মহেশখালী পর্যন্ত সেতু নির্মাণ, পিএমখালীর পাতলী খালকে শহীদ জিয়া স্মৃতি খাল হিসেবে নামকরণ, কক্সবাজার স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীতকরণসহ অর্ধশত দাবি রয়েছে।

এ ছাড়া পর্যটন নগরী কক্সবাজার জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এখানে গ্যাস লাইন স্থাপনের দীর্ঘদিনের দাবি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের এ যৌক্তিক দাবি পূরণ হবে বলে জেলাবাসী আশাবাদী। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির উৎপাত বেড়ে গেছে। এই উৎপাত দমন করা কক্সবাজারবাসীর দাবি।