৮ বছরেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, এখন ময়লার ভাগাড়

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ এএম

নগরবাসীকে বর্জ্যরে অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে দেশে প্রথম বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের জন্য ২৩ একর জমি অধিগ্রহণের পর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরও করেছিল। কিন্তু ৮ বছরেও এ প্রকল্পের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বরং প্রকল্প এলাকা এখন বর্জ্যরে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার সম্প্রতি অগ্রাধিকার-ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় নাসিক কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নারায়ণগঞ্জ আর নোংরা শহরের তালিকায় থাকবে না।

২০১১ সালের ৫ মে বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা ও বন্দরের কদমরসুল পৌরসভার সমন্বয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন হলেও দীর্ঘ দেড় দশকেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মেলেনি ২৭টি ওয়ার্ডের ৭২.৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বসবাসরত ২০ লক্ষাধিক মানুষের। যত্রতত্র প্রধান সড়ক, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লা ফেলা হচ্ছে। শুধু গৃহস্থালি বা ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানেরই নয় বিভিন্ন শিল্প কারখানা এমনকি ক্লিনিক্যাল বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে সড়কের পাশে। এতে ছড়াচ্ছে নানা ধরনের রোগব্যাধি। জানা গেছে, ২০১৮ সালে একনেকে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুঁড়ি দশপাইপ এলাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের জন্য ২৩.২৯ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পিডিবির সঙ্গে নাসিকের সমঝোতা চুক্তি হয়। ২০২২ সালে চীনের একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে পিডিবি। চীনা প্রতিষ্ঠানটি ৬০০ টন বর্জ্য থেকে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা করলেও অর্থনৈতিক সংকটসহ নানা অজুহাতে প্রকল্পের কাজ থেমে যায়। বর্তমানে এ প্রকল্প এলাকা রূপ নিয়েছে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে। এখন সেখানে শুধু ময়লা ফেলা ছাড়া আর কোনো কাজ হচ্ছেনা। নির্মিত বেশ কিছু শেড নষ্টের পাশাপাশি পাম্পও বিকল হয়ে গেছে। প্রতিদিন শহর এবং সিদ্ধিরগঞ্জের ১৮টি ওয়ার্ড থেকে ৩০টি ড্রাম ট্রাকে সংগ্রহ করা বর্জ্য এখানে ফেলা হচ্ছে। 

নগরবাসী বলছে, সিটি করপোরেশন গঠনের দেড় দশক পার হলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোনো উন্নতি হয়নি। নাসিকের বিভিন্ন স্থান এখন অলিখিত ডাম্পিং পয়েন্ট। এসব স্থানে দুর্গন্ধে নাক চাপা দিয়ে হাঁটতে হয়। ময়লা সংগ্রহকারীরা টাকার বিনিময়ে বাড়ি বাড়ি এসে ময়লা নিয়ে গেলেও অনেকেই সড়কের পাশে খোলা জায়গায় ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণ করে চলেছেন। নগরবাসীর প্রত্যাশিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু বিদ্যুৎই পাওয়া যাবে না বরং পরিবেশদূষণও কমবে। তাই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি সবার।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘বর্তমান সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে উদ্যোগে নিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নারায়ণগঞ্জ নোংরা শহরের তালিকা থেকে বাদ পড়বে। এ ছাড়া উৎপাদিত বিদ্যুৎ নারায়ণগঞ্জেও কাজে লাগবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত