রেলপথ আবার চালুর উদ্যোগ

দিনাজপুরের পার্বতীপুর মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির পাথর রেলপথে পরিবহন প্রায় ১৫ বছর বন্ধ থাকার পর আবার রেলপথ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবানীপুর থেকে মধ্যপাড়া পাথর খনি পর্যন্ত রেলপথ সংস্কারের জন্য প্রায় ১৩৪ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, এই খনির পাথর রেলপথে পরিবহন করার কথা থাকলেও বাধ্য হয়ে সড়ক পথে পরিবহন করা হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ দ্বিগুণ পড়ছে। ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে পাথর বিক্রি কমে গেছে। ফলে খনি কর্তৃপক্ষ আর্থিক সংকটে পড়ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (সিএমই) মো. আমিনুল হাসান দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, এই রেলপথ সংস্কারের জন্য খনি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রেলপথ সংস্কারের কাজ শুরু হবে।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, রেলপথ বন্ধ থাকায় সড়কপথে পাথর পরিবহন খাতে আর্থিক অপচয় হচ্ছে। রেলপথে পাথর পরিবহনে মধ্যপাড়া-ঢাকা পর্যন্ত প্রতি টনে খরচ হয় মাত্র ৭০০-৮০০ টাকা। অথচ সমপরিমাণ পাথর মধ্যপাড়া-ভৈরব-ঢাকা সড়কপথে পরিবহনে প্রতি টনে খরচ হয় ১ হাজার ৬শ’ টাকা থেকে ১ হাজার ৭শ’ টাকা।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) অধীন মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের খনিটি ১৯৭৩-৭৪ সালে আবিষ্কার হয়। এরপর প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মধ্যপাড়া খনি পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ শেষে ২০০৯ থেকে রেলপথে পাথর পরিবহন শুরু হয়। কিন্তু ২০১১ সালে পার্বতীপুরের ভবানীপুর রেলস্টেশন থেকে মধ্যপাড়া খনি পর্যন্ত রেলপথের বেশ কয়েকটি স্থানে ৭০টি সিøপার (পাটাতন) চুরি যায়। এরপর থেকে বন্ধ হয়ে পড়ে ওই পথে পাথরবাহী ওয়াগনের চলাচল। কিন্তু এরপর আর তা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর মধ্যে অকেজো হয়ে পড়েছে ‘পাথর পরিমাপ স্কেল’। রেলপথে অবকাঠামো ও রেললাইনসংলগ্ন জমি বেদখল হয়ে গেছে। চুরি হয়ে গেছে প্রায় ৫ কিলোমিটার রেললাইন। এ বিষয়ে পার্বতীপুর রেলওয়ে থানায় ১১টি মামলা চলছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, খনির ৮০ ভাগ পাথর রেলপথে পরিবহন করতে হবে। কিন্তু কিছুতেই ওই নির্দেশনা কাজে আসছে না।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও সেবা) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম রিটু দেশ রূপান্তরকে জানান, মধ্যপাড়া পাথর খনির ১২ ইয়ার্ডে ৪২৭ কোটি টাকার ১৪ লাখ ৬৭ হাজার টন পাথরের মজুদ গড়ে উঠেছে। এই দুই সাইজের পাথর বিক্রি কমে যাওয়ায় অর্থ সংকটে পড়েছে খনি কর্তৃপক্ষ। বতর্মানে নদী শাসনের জন্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকার বোল্ডার ৩ লাখ ৯০ হাজার টন পাথর এবং রেলপথের জন্য ২৫০ কোটি টাকার ব্লাস্ট ৯ লাখ ৫০ হাজার টন পাথর ছাড়াও আরও ১০০ কোটির টাকার পাথর মজুদ রয়েছে। মধ্যপাড়া-ভবানীপুর রেলপথটি চালু হলে পাথর পরিবহনে খনির ব্যাপক অর্থ সাশ্রয় হবে।

পাথর খনির বিপণন বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশে পাথরের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ টন। এ চাহিদার সিংহভাগ আমদানি করা হয় দুবাই, ভিয়েতনাম, ভারত ও ভুটান থেকে। সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। অথচ রেলপথে তা পরিবহনের ব্যবস্থা না থাকায় বড় অঙ্কের টাকা গচ্চা যাচ্ছে।

পাথর কেনাবেচার অনুমোদিত ডিলার মো. মোমিনুল হক জানান, খনির নির্ধারিত ১৬৫ ডিলারদের মাধ্যমে পাথর বিক্রি করা হয়। এই খনির পাথর সরাসরি ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয় না। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে পাথরে।