মাথার ওপর ভাঙাচোরা একটি ছাপড়াঘর, যেখানে নেই কোনো জানালা কিংবা দরজা। জীবনযুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পেতে দিন কাটছে পটুয়াখালীর দুমকির পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়ন দক্ষিণ পাঙ্গাসিয়া গ্রামের বাসিন্দা আছিয়া বেগমের, বয়স ৬৫ বছর। স্বামী মারা যাওয়ার প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও তার ভাগ্যে জোটেনি বিধবা ভাতা কিংবা অন্য কোনো সরকারি সহায়তা।
আছিয়া বেগমের জীবনের গল্প যেন দারিদ্র্য আর বঞ্চনার এক দীর্ঘ অধ্যায়। ২০০৭ সালে স্বামী আবদুল মজিদ হাওলাদারের মৃত্যুর পর থেকেই শুরু হয় তার সংগ্রাম। সংসারে একমাত্র সঙ্গী শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে। নিজের জীবনের কষ্টের পাশাপাশি ছেলের ভরণপোষণের দায়িত্বও বহন করতে হচ্ছে তাকে। কোনো আয়-রোজগারের পথ না থাকায় শেষ বয়সে এসে বাধ্য হয়েছেন ভিক্ষাবৃত্তিকে জীবিকার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিতে।
আছিয়া বেগম বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে অনেক কষ্টে আছি। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাহায্য চাই। বিধবা ভাতার জন্য অনেকবার চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে গেছি, কিন্তু এখনো কোনো কার্ড পাইনি।
স্থানীয়রা জানায়, আছিয়া বেগম প্রকৃত অর্থেই একজন অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারী। অথচ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার তালিকায় তার নাম নেই।
তাদের অভিযোগ, প্রকৃত দরিদ্রদের পরিবর্তে অনেক সময় প্রভাবশালী বা সচ্ছল পরিবারের সদস্যরা সুবিধা পেয়ে থাকেন, ফলে আছিয়ার মতো মানুষরা বঞ্চিত থেকে যান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, একজন বিধবা, দরিদ্র এবং প্রতিবন্ধী সন্তানের দায়িত্ব বহনকারী নারী কীভাবে এত বছর সরকারি সহায়তার বাইরে থাকেন? তারা দ্রুত তাকে ভাতার আওতায় আনার দাবি জানান।
এবিষয়ে পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম গাজী বলেন, তিনি আবেদন করেছেন কি না, সেটি দেখতে হবে। বর্তমানে অনলাইনে আবেদন ছাড়া ভাতার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই।
তবে আছিয়া বেগম ও স্থানীয়দের দাবি, ভাতা পাওয়ার আশ্বাস একাধিকবার দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগের ফল তারা দেখেননি।
দুমকি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অলিউল ইসলাম জানান, ভাতাভোগীদের তালিকা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমাদের কাছে পাঠানো হয়। পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়ন থেকে প্রেরিত তালিকায় আছিয়া বেগমের নাম পাওয়া যায়নি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নাম পাঠানো হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আছিয়া বেগমের মতো অসংখ্য অসহায় মানুষের কাছে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শুধু একটি ভাতা নয়, বরং বেঁচে থাকার অবলম্বন। কিন্তু দীর্ঘ দুই দশক অপেক্ষার পরও সেই সহায়তার ছোঁয়া না পাওয়া আছিয়ার জীবনে যেন বঞ্চনার গল্পই বারবার ফিরে আসে। এখন তার একটাই প্রত্যাশা-জীবনের শেষ সময়ে অন্তত রাষ্ট্রের সহায়তার হাত যেন তার দোরগোড়ায় পৌঁছে।