চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজছাত্রী শ্রুতি পালের মৃত্যুর ঘটনায় তানভীর হোসেনকে জড়িয়ে উত্থাপিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান প্রচারণার প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিযুক্ত তানভীরের পরিবারের সদস্যরা। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে মিরসরাই প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তানভীরের মেজ বোন নাবিলা আক্তার। এ সময় তিনি বলেন, একটি সড়ক দুর্ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে শ্রুতি পালের পরিবার আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা বিভিন্ন অভিযোগ তোলে। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তানভীর হোসেন ও তার এক বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে তানভীর কারাগারে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তানভীরের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কোনো ধরনের মেডিকেল রিপোর্ট বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়াই তানভীরের বিরুদ্ধে শ্রুতিকে ধর্ষণ ও পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তারা এ ধরনের অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তানভীরের বাড়ি কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথ দিঘী ইউনিয়নে। সে ঐ ইউনিয়নের বৈতিয়ারা গ্রামের মৌলবী বাড়ির মৃত এবাদত হোসেনের পুত্র। অপরদিকে নিহত শ্রুতি পাল ফেনী টিচার্স অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের বিএড দ্বিতীয় বর্ষে ছাত্রী। তিনি চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকার হোমিও চিকিৎসক টিটু পালের মেয়ে।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তানভীরকে দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে আমরা চরম মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিক চাপে রয়েছি।
তারা আরও বলেন, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের ওপর আস্থা রেখে তারা নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা শ্রুতি পালের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার চান। তবে বিচার যেন তথ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে হয় এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ৭ জুন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই পৌর সদরের উত্তর বাইপাস এলাকায় একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন শ্রুতি পাল। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরবর্তীতে তার পরিবার তানভীর হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ উত্থাপন করলে পুলিশ তাকে ও তার এক বন্ধুকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন বলে জানা গেছে।