জালিয়াতির অভিযোগ, স্থগিত হতে পারে বুবলীর ‘পিনিক’

এবারের ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ৯টি সিনেমার অন্যতম আলোচিত সিনেমা ‘পিনিক’-এর বিরুদ্ধে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) ছাড়াই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির অভিযোগ উঠেছে। সরকারকে অর্থ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে সিনেমাটি সেন্সর সনদ পেল, তা নিয়ে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মধ্যে এখন আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। সাময়িক বা স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ হতে পারে সিনেমাটি। 

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) অতিরিক্ত পরিচালক (বিক্রয়) রফিকুল ইসলাম জানান, ‘পিনিক’ সিনেমার পক্ষ থেকে এনওসির জন্য আবেদন করা হয়েছিল এবং অ্যাকাউন্টে টাকাও জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে সিনেমাটির প্রযোজকের আগের একটি সিনেমার কিছু টাকা বকেয়া রয়েছে। সেই বকেয়া পরিশোধ না করায় বিএফডিসি থেকে ‘পিনিক’ সিনেমার জন্য কোনো এনওসি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে তারা সেন্সর বোর্ডে চিঠি পাঠাচ্ছেন বলেও নিশ্চিত করেছেন। 

একইরকম মন্তব্য করে এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান বলেন, এনওসি ছাড়া সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে, বিষয়টি আসলে আমাদের আগে জানা ছিল না। ঈদের সময় একসঙ্গে অনেক সিনেমা জমা পড়ে এবং কাগজপত্র সাধারণত সেন্সর বোর্ড থেকেই যাচাই-বাছাই করা হয়। তবে বিষয়টি জানার পরই আমরা অভিযোগপত্র পাঠিয়েছি। বকেয়া থাকার কারণেই মূলত আমাদের পক্ষ থেকে এনওসি দেওয়া হয়নি। সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্যও এই এমডি। তবুও কীভাবে তার চোখ এড়িয়ে সিনেমাটি মুক্তির অনুমতি পেল, সেই প্রশ্ন এখন অনেকের। 

এনওসি ছাড়া কীভাবে একটি চলচ্চিত্রকে সনদ দেওয়া হলো, এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য দিতে পারেননি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আবদুর রহমান। তিনি বলেন, এ সম্পর্কে আমি জানি না। এসব মুখস্থ রাখা সম্ভব না। আমি আপনাকে চিনি না, আপনি ডিডির (ডেপুটি ডিরেক্টর) সঙ্গে কথা বলেন। আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে তারপর কথা বলবেন। 

বিএফডিসি কর্তৃপক্ষের এমন গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ‘পিনিক’ সিনেমার প্রযোজক। পরিচালক জাহিদ জুয়েল বলেন, এনওসি নিয়েই সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রযোজক সব আইনি প্রক্রিয়া ও কাগজপত্র সম্পন্ন করেছেন। সিনেমা মুক্তির যে প্রচলিত নিয়ম রয়েছে, তা মেনেই সব করা হয়েছে। নিয়ম না মানলে তো সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া যেত না। 

প্রযোজক আশরাফ কিটু বলেন, এনওসি ছাড়া কি সিনেমা মুক্তি দেওয়া সম্ভব? আমি এনওসি নিয়েছি এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় টাকাও জমা দিয়েছি, যার রসিদ আমার কাছে আছে। বিএফডিসি যদি এনওসি না দিয়ে থাকে, তাহলে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেল কীভাবে? 

এনওসি বিতর্কের পাশাপাশি ‘পিনিক’ সিনেমার প্রযোজক আশরাফ কিটুর বিরুদ্ধে অধিকাংশ কলাকুশলীর পাওনা পরিশোধ না করার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আদর আজাদ ও বুবলীকে প্রধান চরিত্রে নিয়ে সিনেমাটির শুটিং শুরু হলেও শুরু থেকেই নানা আর্থিক জটিলতা এবং মাঝপথে শুটিং বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। 

কলাকুশলীদের ক্ষোভের কিছু স্ক্রিনশট ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে প্রযোজকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া পরিশোধ না করার বিষয়ে ভুক্তভোগীদের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, সিনেমাটির সঙ্গে কাজ করা একাধিক প্রধান টেকনিশিয়ানের বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক এখনো বকেয়া রয়েছে।