স্পোর্টিং উইকেটে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। অতীতে ঘরের মাঠে স্পিন-বান্ধব উইকেটের সুবিধা নিয়ে টেস্ট বা টি-টুয়েন্টিতে সাফল্য এলেও, এবারের জয়টি এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নিরপেক্ষ কন্ডিশনে। মিরপুরে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই অজিদের দাঁড়াতে দেয়নি স্বাগতিকরা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বভাবসুলভ হাসিতে পেসার তাসকিন আহমেদ উইকেট নিয়ে সমালোচকদের কটাক্ষ করে বলেন:
'এবার কেউ উইকেট নিয়েও কিছু বলতে পারবে না। ভালো উইকেটে খেলছি। এমন না যে ধানখেত! আমরা ভালো উইকেটে খেলছি, ভালো দলের সঙ্গে জিতেছি। এটা দারুণ অর্জন।’
টস জিতে খেলতে নেমে ম্যাচের শুরুতেই নজিরবিহীন বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা। ক্রিকেট ইতিহাসের দীর্ঘ ৫১ বছর এবং ১০২৪টি ওয়ানডে ম্যাচের অভিজ্ঞতায় যা কখনো ঘটেনি, আজ তাই দেখল অস্ট্রেলিয়া—স্কোরবোর্ডে কোনো রান তোলার আগেই টপ অর্ডারের ৩ উইকেট হাওয়া! প্রথম ওভারে কোনো রান না দিয়েই উইকেটের খাতা খোলেন খোদ তাসকিন।
মাঠের সেই অবিশ্বাস্য মুহূর্ত নিয়ে তাসকিন জানান, ‘আসলে খুবই ভালো লেগেছে। আমরা মাঠে ছিলাম, এত কিছু দেখার সুযোগ হয়নি। কারণ, প্রতিটি ওভারই নতুন করে শুরু হয়। সবাই মিলে যত দ্রুত ওদের শেষ (অলআউট) করা যায় সেই চেষ্টাই করেছি।’
শুরুতে ধুঁকতে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন ক্যামেরুন গ্রিন। তাঁর অর্ধশতকের ওপর ভর করেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় অজিরা। বাংলাদেশের বোলারদের প্রশংসা করে গ্রিন বলেন, (শূন্য রানে ৩ উইকেট হারানোর পর) ঘুরে দাঁড়ানো অবশ্যই কঠিন; কিন্তু আমার মনে হয় আমরা ভালো করেছি।’**
তবে গ্রিনের এই লড়াই জেতার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ৫ উইকেটে ম্যাচটি জিতে নেয় বাংলাদেশ। এই জয়ের মাধ্যমে ঘরের মাঠে টানা পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের রেকর্ড গড়ল টিম টাইগার্স। নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তিদের বিপক্ষে এই সাফল্য এসেছে দারুণ সব উইকেটে খেলে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্পোর্টিং উইকেটে খেলার উদ্দেশ্য নিয়ে তাসকিন বলেন, ‘বছরখানেক ধরে আস্তে আস্তে দল হিসেবে আমরা গড়ে উঠছি। ভালো উইকেটে, ভালো কন্ডিশনে খেলে দল উন্নতি করছে। কারণ, আমাদের লক্ষ্য বড় টুর্নামেন্টে ভালো করার। যেটা এখনো ওভাবে হয়নি। এ জন্যই আমাদের বোর্ড এবং খেলোয়াড় সবাই মিলে চাইছে ভালো কন্ডিশনে খেলে স্কিল বাড়াতে।’
বর্তমানে বাংলাদেশের ক্রিকেট শক্তির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে পেস বোলিং বিভাগ। মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ কিংবা তরুণ গতিদানব নাহিদ রানারা নিয়মিত ম্যাচ জেতাচ্ছেন। প্রথম ওয়ানডেতে ২৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হন মোস্তাফিজ।
বিশ্ব ক্রিকেটে এই পেস আক্রমণের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে তাসকিন আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, তাঁর মতে বর্তমান বাংলাদেশ পেস ইউনিট বিশ্বের 'সেরা তিনে’থাকবে।
পেসারদের এই জয়যাত্রা ধরে রাখার প্রত্যয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘বোলিং ইউনিট হিসেবে সবাই মিলে উন্নতি করছি, এটাই সবচেয়ে বড় সার্থকতা। কারণ, একটা সময়ে গিয়ে আমরা কেউই খেলব না। ভবিষ্যতে যেন আমরা উপরের দিকে নিয়ে যেতে পারি, সে চেষ্টা করতে হবে।’
তরুণ সতীর্থ নাহিদ রানার গতিতে অজি ব্যাটারদের পরাস্ত হওয়ার দৃশ্য মিড-অফে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেছেন তাসকিন। রানার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ যেন ওকে আরও সফলতা দেয়, আমাদের পেস বোলিংটাকে ওপরে নিয়ে যায়। সারা বিশ্ব কথা বলতেছে আমাদের পেস বোলিং নিয়ে, এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া।’