 বিশ্বকাপ

বিয়ের মঞ্চে ‘মহারণ’

বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন বর-কনে। চারদিকে সানাইয়ের সুর আর অতিথিদের ভিড়। হঠাৎ করেই সেই বিয়ের আসর যেন রূপ নিল কাতার কিংবা মারাকানা স্টেডিয়ামের ক্ষুদ্র সংস্করণে। একদিকে হলুদ-সবুজ সাম্বার ছন্দ, অন্যদিকে সাদা-আকাশী নীল ট্যাঙ্গোর আবেগ। গয়না বা দামি আসবাব নয়, বিয়ের উপহার হিসেবে বর পেলেন ব্রাজিলের জার্সি আর আর্জেন্টিনার জার্সি উঠল কনের হাতে।

গতকাল বৃহস্পতিবার কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় এমন এক ব্যতিক্রমী বিয়ের সাক্ষী হলেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। বর বিল্লাল হোসেন পেশায় একজন সাংবাদিক; কাজ করেন ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সান-এর কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি ও স্থানীয় কুমিল্লার জমিনের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে। কনে হোমনা উপজেলার মাধবপুর গ্রামের রুবাইয়াত জাহান ফাইজা।

উপহার হিসেবে জার্সি কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে বরের সহকর্মী সাংবাদিক এম হাসান বলেন, ‘বিশ্বকাপের উন্মাদনা আর বাঙালির ফুটবল প্রেমকে এক সুতোয় গাঁথতেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। সাংবাদিক বন্ধুর বিয়েতে একটু ভিন্ন কিছু করতে চেয়েছিলাম, যা আনন্দ আর স্মৃতি দুই ই বয়ে আনবে।’

মঞ্চে যখন বর-কনের হাতে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের জার্সি তুলে দেওয়া হয়, তখন উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে শুরু হয় হাসাহাসি আর হালকা খুনসুটি। মুহূর্তেই বিয়ের আড্ডা ভাগ হয়ে যায় দুই শিবিরে। কেউ বলছেন, ‘বিশ্বকাপের হেক্সা তো এবার ব্রাজিলেরই’, তো অন্য পক্ষ মেসির জাদুতে আর্জেন্টিনার শ্রেষ্ঠত্বের গান গাইছেন।’

বিয়ের এই ফুটবলীয় আমেজ কেবল অনুষ্ঠানস্থলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রীতিমতো আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে বলছেন, এই জার্সি বিনিময় কেবল ফুটবল প্রেম নয়, বরং ভিন্ন মত ও দলের মধ্যেও যে সম্প্রীতি বজায় রাখা সম্ভব, কুমিল্লার এই বিয়ে তারই এক প্রতীকী উদাহরণ।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিক মহলের সরব উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। উপস্থিত ছিলেন এখন টিভির ব্যুরো প্রধান খালেদ সাইফুল্লাহ, বাসসের কামরুল হাসান, আকাশ টিভির সম্পাদক মহিউদ্দিন আকাশসহ অনেকে।

দিনের শেষে ফুটবল মানেই আনন্দ, আর বিয়ে মানেই মিলন। কুমিল্লার এই মঞ্চে যেন ফুটবল আর বিয়ে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল। আগামী ১৯ জুলাইয়ের অপেক্ষায় থাকা ফুটবল বিশে^র উন্মাদনা যেন এই বিয়ের আসর থেকেই শুরু হলো। বর-কনের মুখে জার্সির সেই হাসিমাখা ছবি অন্তত তাই বলছে মাঠের লড়াই যাই হোক, দিনশেষে জয় হয় ভালোবাসারই।